বর্ষার আগেই পদ্মার পাড়ে ভাঙন

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৯ এএম

বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই জোয়ারের বাড়তি পানি ও দমকা বাতাসের প্রভাবে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন শুরু হয়েছে। হঠাৎ করে পাড়ধস শুরু হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বর্ষায় ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এতে নতুন করে বহু পরিবার গৃহহীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিন গত সোমবার কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নদীর পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার মালুচি, গোপীনাথপুর, কাঞ্চনপুরসহ কয়েকটি এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। কোথাও তীরে ফাটল ধরছে। আবার কোথাও বড় বড় অংশ হুড়মুড়িয়ে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতে প্রতিনিয়ত পাড় ভাঙছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী গত দুই দশকে হরিরামপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও নদীর তীরবর্তী এলাকা পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়েছে। শুধু গত বছরেই প্রায় এক হাজার বিঘা ফসলি জমি ও শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ বছরও ইতিমধ্যে নতুন করে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙনের কবলে পড়েছে। বিশেষ করে যেসব স্থানে এখনো জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি সেসব অংশ বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে আগে স্থাপন করা জিও ব্যাগগুলোর অনেকগুলোই নিচের মাটি সরে যাওয়ায় কার্যকারিতা হারাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে প্রতিবছরই ভাঙনের মুখে পড়ে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারাতে হচ্ছে তাদের।

সাবেক ইউপি সদস্য ইদ্রিস আলী বলেন, ‘আমার বাড়ি তিনবার নদীতে ভেঙে গেছে। এখনো ভিটা নদীর একেবারে কাছাকাছি হওয়ায় সবকিছু হারানোর শঙ্কায় আছি। অস্থায়ী নয়, স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জরুরি।’

একই এলাকার বাসিন্দা লিপি বেগম বলেন, ‘বছরের পর বছর ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করছি। কোনোভাবে টিকে আছি। কিন্তু পানি বাড়লেই আবার ভয় শুরু হয়। অনেক কিছু বিক্রি করে দিয়েছি। জানি না আর কতদিন এখানে থাকতে পারব।’

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং স্থায়ী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কাজ চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত