শিল্প খাতের গতিধারা ও বাস্তব তথ্য তুলে ধরতে নিয়মিত ম্যানুফ্যাকচারিং ইনডেক্স (উৎপাদন সূচক) চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)। বিভিন্ন খাতের বৃহৎ ও মাঝারি উৎপাদনশীল শিল্প নিয়ে নিয়মিত অবস্থা তুলে ধরার জন্য ১০০ সূচক তৈরি করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ও সূচক তৈরিতে সহায়তা করবে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। গবেষণা কার্যক্রমটির নামকরণ করা হয়েছে ‘বিআইডিএস-বিসিআই ইন্ডাস্ট্রি ১০০ ইনডেক্স’। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের প্রতিনিধিরা। প্রতি তিন মাস অন্তর গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হবে।
এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার রাজধানীতে বিআইডিএস সম্মেলন কক্ষে অংশীজনদের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এ. কে. এনামুল হক, সম্মানিত অতিথি ছিলেন বিসিআইয়ের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ)। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. কাজী ইকবাল।
মূল প্রবন্ধে ড. ইকবাল বলেন, নিজস্ব পদ্ধতিতে ত্রৈমাসিক শিল্প সূচক (ইন্ডাস্ট্রি ইনডেক্স) তৈরি করতে যাচ্ছি, যা মাঝারি এবং বৃহৎ শিল্প খাতকে নিয়ে করতে যাচ্ছি। আশা করি একটি সঠিক পরিসংখ্যান উপস্থাপন করতে পারব। তিনি বলেন, মূলত তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও স্পিনিং, গার্মেন্টস এক্সেসরিজ, ওষুধ, প্লাস্টিক, রাবার, লেদার ও লেদার প্রডাক্টস, ফুড প্রসেসিং ও কৃষি সরঞ্জাম, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্নিচার, অটোমোবাইল ও মোটর বাইক, আইসিটি, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স, সিরামিক ও সিমেন্ট এবং মেটালিক ইন্ডাস্ট্রিজ (আয়রন ও স্টিল) ইত্যাদি খাত নিয়ে গবেষণাটি পরিচালনা করা হবে।
ড. এনামুল হক বলেন, বিআইডিএস নতুন নতুন অনেক কাজ করেছে। এর মধ্যে সংস্থার ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ফিজিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডিভিশন বাংলাদেশের ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রি সেক্টরের (উৎপাদনশীল শিল্প খাত) নিয়মিত অবস্থা তুলে ধরার উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় শুনি শিল্পের অবস্থা ভালো বা খারাপ। কিন্তু এই বক্তব্যের পক্ষে জোরালো ডাটা (তথ্য) পাওয়া যায় না।’ এর ধারাবাহিকতায় আমরা ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রি ইনডেক্স করার পরিকল্পনা করি এবং আমাদের সঙ্গে বিসিআই যৌথভাবে কাজটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিআইডিএস গবেষণা পরিচালনার মৌলিক কাজ তথ্য সংগ্রহ ও তথ্য উপস্থাপন পদ্ধতি তৈরি করা, গবেষণা করা। এর জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
বিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদন খাত সব ক্ষেত্রে সঠিক নীতি সহায়তা পাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে সেবা ও সাধারণ ব্যবসায়িক খাতের সঙ্গে উৎপাদনশীল খাতকে মিশিয়ে ফেলা হচ্ছে। যার ফলে আমরা পলিসি মেকারদের (নীতি পরিকল্পনাকারীদের) কাছে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে পারি না। উৎপাদনশীল শিল্পের বিকাশ, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য এ শিল্প সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংশ্লিষ্ট শিল্প মালিকসহ সব অংশীজনদের জানা দরকার।
তিনি বলেন একটি শক্তিশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিআইডিএস এ কাজটি সুন্দর ভাবে করতে পারবে এবং এর মাধ্যমে শিল্প মালিক, নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী, সরকার সবাই উপকৃত হবে।
সভায় বক্তব্য রাখেন বিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহরিয়ার, উত্তরা মোটর করপোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান প্রমুখ।