বিশ্বরাজনীতি, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বিমান সংকটের মধ্যেই ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চলচ্চিত্রাঙ্গনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন ‘কান চলচ্চিত্র উৎসব-২০২৬ ’। আগামী ১২ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত দক্ষিণ ফ্রান্সের শহর কানে এ উৎসব হতে যাচ্ছে। উৎসব ঘিরে ইতোমধ্যে বহুমাত্রিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ফরাসি সরকার। এ আয়োজনকে শুধু একটি সাংস্কৃতিক উৎসব নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কান চলচ্চিত্র উৎসব কেন্দ্র করে প্যারিসে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কাঠামো। এখান থেকেই বিভিন্ন দেশের অতিথিদের ভিসা প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা অনুমোদন, মিডিয়া সমন্বয় এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ পরিচালিত হচ্ছে। এবারের উৎসবের জন্য দুই হাজারেরও বেশি চলচ্চিত্র জমা পড়েছে, সেখান থেকে বাছাই করে মূল প্রতিযোগিতার জন্য সীমিতসংখ্যক নির্বাচন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব চলচ্চিত্রাঙ্গনের শীর্ষ নির্মাতা ও তারকাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এবারের আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে নিরাপত্তার বিষয়টি। গত বছরের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও নাশকতার ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে উৎসবস্থলে কড়া নজরদারি, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন আকাশপথ সীমিত বা পরিবর্তিত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ফ্লাইট রুট দীর্ঘ হয়েছে। আবার জ্বালানি ব্যয়বৃদ্ধির কারণে ফ্লাইট সংখ্যা আংশিক কমানো হয়েছে। এতে কান শহরের নিকটবর্তী প্রধান বিমানবন্দরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্স সরকার বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাড়ানো হয়েছে চার্টার ফ্লাইট ও ব্যক্তিগত বিমানের ব্যবহার। পাশাপাশি প্যারিস থেকে কানে দ্রুতগতির রেল সংযোগ জোরদার এবং ভিআইপি অতিথিদের জন্য হেলিকপ্টার পরিবহন ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
উৎসব আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রায় বিশটির বেশি চলচ্চিত্র অংশ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নির্মাতা ও শিল্পীদের উপস্থিতি এবারের আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। পাশাপাশি সম্মানসূচক পাম দ’অর প্রদান করা হবে বিশ্ব চলচ্চিত্রাঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের। লাল গালিচায় খ্যাতিমান অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উপস্থিতিও থাকছে, যা উৎসবের আকর্ষণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। বৈশ্বিক নিরাপত্তাঝুঁকি, বিমান সংকট এবং রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা সত্ত্বেও ফ্রান্সের সুসংগঠিত প্রস্তুতি ও শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা এ আয়োজনকে সফল করে তুলবে বলে আশা আয়োজকদের।
