দেশের বিভিন্ন জেলায় গতকাল শনিবার বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই হাওরে ধান কাটা কিংবা খোলা স্থানে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান। একই ঘটনায় কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে
সুনামগঞ্জ : জেলার চার উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটা ও হাঁস চরাতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষক, শ্রমিকসহ ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পৃথক এ সব ঘটনায় অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে জেলার ওপর দিয়ে প্রবল ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, বজ্রাঘাতে ধর্মপাশা উপজেলায় এক কিশোরসহ ২জন, তাহিরপুরে ১ জন, জামালগঞ্জে ১ জন এবং দিরাই উপজেলায় ১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন জামালগঞ্জ উপজেলার চানপুর গ্রামের গজারিয়া হাটির মো. নূর জামাল (২২), তাহিরপুর উপজেলার জামলাবাজ গ্রামের আবুল কালাম, দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩৮), ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের রহমত উল্লাহ (১৩) এবং পাইকুরহাটি ইউনিয়নের হাবিবুর রহমান (২৪)।
রংপুর : জেলার রংপুরের মিঠাপুকুরে বজ্রপাতে ২ জেলের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ৭জন। গতকাল দুপুরে উপজেলার ছোট শালমারা বিলে মাছ ধরতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের মিলন রায় এবং রামেশ্বরপাড়া গ্রামের আবু তালেব।
পুলিশ জানায়, উপজেলার ছোট শালমারা বিলে মাছ ধরার সময় সেখানে পরপর কয়েকটি বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলে ৯ জন আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে মিলন রায় ও আবু তালেব মারা যান।
ময়মনসিংহ : জেলার গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় বজ্রপাতে এক যুবকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে পৃথক এ দুটি ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেনগৌরীপুর উপজেলার কোনাপাড়া গ্রামের রহমত আলী উজ্জ¦ল (৩০) ও গফরগাঁও উপজেলার ধাইরগাঁও গ্রামের মমতাজ আলী খান (৫৮)।
স্থানীয়রা জানান, রহমত আলী উজ্বল দুপুরে ধানক্ষেত দেখতে গেলে আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপরদিকে, মমতাজ আলী খান জোহরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতের শিকার হন।
হবিগঞ্জ : জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে উপজেলার বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের বিবিয়ানা নদীর তীরবর্তী মমিনা হাওরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত সুনাম উদ্দিন ওই ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মৃত সুন্দর আলী সাহেবের ছেলে।
পুলিশ জানায়, হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নেত্রকোনা : জেলার আটপাড়ায় ধলার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন আলতু মিয়া (৬০) নামে এক কৃষক। তিনি সুখারি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের হাতিয়া গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, সকালে ধলার হাওরে ধান কাটার সময় বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে স্থানীয় কৃষকরা বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেন। বৃষ্টি থামার পর কৃষকরা আবারও ধান কাটতে হাওরে গেলে জমিতে আলতু মিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ বাড়ি নিয়ে যান। এ বিষয়ে আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহ্নূর রহমান জানান, ‘নিহত কৃষকের দাফন-কাফনের যাবতীয় প্রক্রিয়ার জন্য তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।’
