রাবার ড্যাম উপচে মাতামুহুরীতে লবণপানি, ফসল নিয়ে শঙ্কা

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৩ এএম

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় মাতামুহুরী নদীতে সামুদ্রিক লবণপানি ঢুকে পড়ায় বোরো ধান ও সবজি চাষে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উপজেলার বাঘগুজারা পয়েন্টের রাবার ড্যাম উপচে কয়েক দিন ধরে নদীর উজানে লবণপানি প্রবেশ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এতে মিঠাপানিনির্ভর সেচব্যবস্থা বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা মৌসুমের একেবারে শেষ সময়ে কৃষকদের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।

কোনাখালী ইউনিয়নের বাঘগুজারা এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিঠুন চৌধুরী বলেন, জমিতে সেচ দিতে গিয়ে কৃষকরা প্রথমে নদীর পানিতে লবণাক্ততার বিষয়টি টের পান। শনিবার কয়েকজন কৃষক তাকে বিষয়টি জানান। গত রবিবার সকালেও আরও দুয়েকজন কৃষক একই অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি সরেজমিন যাচাই করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অবহিত করা হবে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমের বোরো ধান এখনো অনেক জমিতে পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ধানে দানা আসার পর্যায় চলছে। ধান কাটতে আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (হিসাব ও উন্নয়ন) মো. আরিফুল ইসলামের বরাতে জানা গেছে, এ মৌসুমে চকরিয়ার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৭ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অধিকাংশ এলাকায় ধান কাটার সময় ঘনিয়ে এলেও এখনো অনেক জমিতে সেচ দেওয়া অপরিহার্য।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ড্যাম নামানো না থাকায় উপচেপড়া পানির সঙ্গে লবণপানি ঢোকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, নদীতে লবণপানি প্রবেশ করলে চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত