পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ হচ্ছে আজ। প্রথম ধাপে মোট ১৫২টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ ভোট নিশ্চিত করতে রাজ্যজুড়ে বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে। এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বর্তমান শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এবং প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মধ্যে। এর মধ্যেই প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি এবং অন্য দলগুলো নানা ইস্যুতে প্রচার চালিয়ে গেছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টানা চতুর্থবারের জন্য জয়লাভের লক্ষ্যে প্রচারণা চালিয়েছেন। প্রচারণায় বিজেপি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন মমতা। যদি বিজেপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তবে এটি হবে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম হিন্দুত্ববাদী আদর্শের সরকার। এমনটি হলে তা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত হবে। এবার নির্বাচনে শুধু উন্নয়ন বা শাসন নয়, বরং নাগরিক পরিচয়, সীমান্ত এবং নিরাপত্তা প্রসঙ্গও লড়াইয়ের অন্যতম বিষয়।
তবে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়া ঘিরে নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যটিতে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭ কোটি হলেও, নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬৩.৬৬ লাখ নাম বাদ পড়েছে। আরও প্রায় ৬০ লাখ নাম যাচাইাধীন, যার মধ্যে ৩২.৬৮ লাখ বাদ পড়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৮৯ লাখ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উত্তর ২৪ পরগনা, মালদা ও মুর্শিদাবাদে এ সংখ্যা সর্বাধিক। এর প্রভাব দুভাবে পড়ছে। একদিকে ভোটার মেরুকরণ আরও তীব্র হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও নাগরিক অধিকারের বৈধতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
বিভিন্ন জনমত জরিপে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে তীব্র হবে, তা স্পষ্ট। কিছু জরিপে তৃণমূলের ভোট হতে পারে প্রায় ৪১-৪৩ শতাংশ এবং বিজেপির ৩৪-৪১ শতাংশের মধ্যে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আসনের পূর্বাভাস অনুযায়ী তৃণমূল ১৮৪ থেকে ১৯৪টি আসন পেতে পারে, যেখানে বিজেপি পেতে পারে ৯৮ থেকে ১০৮টি আসন। মুখ্যমন্ত্রী পদে পছন্দের নিরিখেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৪৬-৪৮ শতাংশ মানুষ তাকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান, যেখানে শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থন ৩৩-৩৫ শতাংশের মধ্যে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০ এপ্রিল থেকে প্রথম দফার এলাকায় মদ বিক্রি ও সেবন বন্ধ, যা চলবে ২৩ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত। দ্বিতীয় দফার জন্য ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত একই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। ভোট গণনার দিন ৪ মে-তেও মদের দোকান বন্ধ থাকবে। রাতের বেলায় বাইক চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া দিনে চালকের পেছনে যাত্রী বহনে নিষেধাজ্ঞা। ভোটের দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আংশিক ছাড় থাকবে। পূর্ব মেদিনীপুর প্রশাসন দিঘার হোটেলগুলোকে বাইরের পর্যটকদের বুকিং বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে। ইতিমধ্যে পর্যটকদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়ানো যায়। দ্বিতীয় ও শেষ ধাপে ভোট হবে আগামী ২৯ এপ্রিল। ৪ মে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ করা হবে। কোনো দল বা জোট যদি ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৪৮টি বা তার বেশি আসনে জয়লাভ করে, তাহলে তারাই সরকার গঠন করবে।
