মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির নবনির্বাচিত জান্তা সরকারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গত মঙ্গলবার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ১০০ দিনের মধ্যে একটি শান্তি আলোচনায় বসার আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এখনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে না আসা গোষ্ঠীগুলোকে আলোচনায় যোগ দিতে তিনি ৩১ জুলাইকে চূড়ান্ত সময়সীমা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ সময় তিনি ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের আগে কার্যকর থাকা জাতীয় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে (এনসিএ) স্বাক্ষর করা বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর কথাও উল্লেখ করেন।
তবে সরকারের শান্তি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে প্রভাবশালী দুই বিদ্রোহী গোষ্ঠী কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন এবং চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট। প্রেসিডেন্টের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সামরিক প্রভাবমুক্ত একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে তারা। কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশটির গণতন্ত্রপন্থিী নেত্রী অং সান সু চি’র নেত্বত্বাধীন সরকারকে সরিয়ে দেওয়া জান্তা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার বা তাদের যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুসরণ করার পরিকল্পনা তাদের নেই। চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের মুখপাত্র সালাই তেত নি-ও জানান, তার দল সামরিক প্রভাবমুক্ত একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চাচ্ছে। তাই এই সামরিক সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার কিছু নেই।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা মিয়ানমারের সামরিক সরকার গত জানুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতার আসনে। মিন অং হ্লাইং যিনি পাঁচ বছর আগেই মিয়ানমারে একটি অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, চলতি মাসের শুরুতে তাকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে দেশটির সংসদ। যদিও বিরোধী দলের বর্জন করা এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্বাচন আসলে গণতন্ত্রের আড়ালে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা ধরে রাখার অপকৌশল। নতুন এই প্রশাসনকে এখন পর্যন্ত খুব অল্পসংখ্যক দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে। এ বিষয়ে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রধান সমন্বয়কারী বিরোধী জোট ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের মুখপাত্র নে ফোন লাট বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে বুঝে গেছি, সামরিক বাহিনীর এই ভুয়া আমন্ত্রণের উদ্দেশ্য জনগণের ওপর সামরিক শাসন দীর্ঘায়িত করা।’
২০২২ সাল থেকেই মিয়ানমারের সামরিক সরকার বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দুর্বল করতে সংখ্যালঘু নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে আসছে। তবে তাতে তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি জান্তা। দেশটির বেশিরভাগ অংশে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখনো গৃহযুদ্ধে লিপ্ত। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে গত শুক্রবার ৪ হাজার ৩৩৫ জন বন্দির জন্য সাধারণ ক্ষমা অনুমোদন করেছেন। এর আওতায় ইতিমধ্যে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সু চি’র সরকারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট; সাড়ে চার বছর সাজা কমেছে ৮০ বছর বয়সী সু চি’র।
