জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা ইসলামের শিক্ষা। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সারা জীবন এই শিক্ষাই বাস্তবায়ন করে গেছেন। হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায়, তিনি যেকোনো কাজে অতি বাড়াবাড়ি ও অতি ছাড়াছাড়ি বাদ দিয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বনের প্রতি সাহাবায়ে কেরামকে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
ইবাদত-বন্দেগির ক্ষেত্রে মধ্যপন্থার দাবি হচ্ছে সব ইবাদত সুন্নত অনুযায়ী আদায় করা। এর দ্বারা ইবাদতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা হবে। বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।
লেনদেনের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থার দাবি হচ্ছে হালাল-হারাম যাচাই করে চলা এবং অন্যের অধিকার ক্ষুন্ন করা থেকে বেঁচে থাকা। এটাই লেনদেনের মধ্যে ভারসাম্যের পরিচায়ক।
সামাজিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থার দাবি হচ্ছে নম্রভাবে মানুষের সঙ্গে মেশা। উত্তম চরিত্র এবং বড় মনের পরিচয় দেওয়া। এভাবে সমাজে চলতে পারলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ শান্তিময় সমাজ গড়ে উঠবে সহজেই। কেউ কারও কষ্টের কারণ হবে না। ইমাম গাজ্জালি (রহ.) বলেন, মানুষের সব ভালো-মন্দ চরিত্রের মূলে রয়েছে তিনটি যোগ্যতা।
এক. বিবেক-বুদ্ধির দ্বারা জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে ভারসাম্য তৈরি হয়। প্রজ্ঞা বলতে ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যা এবং ভালো-মন্দের মধ্যে পার্থক্য ক১রতে পারাকে বোঝায়।
দুই. রাগের সাহায্যে মানুষ নিজেকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচিয়ে থাকে। এই যোগ্যতাটি ফলদায়ক হয় যদি তা লাগামহীন না হয়। বরং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অনুগামী হয়। অর্থাৎ যেখানে রাগ করা যুক্তিসংগত সেখানে পরিমিত মাত্রায় রাগ করতে হবে, আর যেখানে রাগ নিয়ন্ত্রণ করা প্রজ্ঞার পরিচায়ক, সেখানে রাগ চেপে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
তিন. কামনা-বাসনার চাহিদা হলো পার্থিব আরাম-আয়েশের জন্য অর্থবিত্ত অর্জন। এটা প্রশংসনীয় হবে যদি তা জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধীন হয়। অন্যথায় লাগামহীন কামনা-বাসনা মানুষের জন্য ক্ষতিকর।
এই তিন যোগ্যতাকে কাজে লাগানোর জন্য প্রান্তিকতা মুক্ত থেকে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা চাই। বিবেক-বুদ্ধি যদি ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করে তাহলে সূক্ষ্ম কৌশল, উন্নত মেধা, জ্ঞানের গভীরতা এবং আত্মসমালোচনার মতো প্রশংসনীয় গুণাবলি প্রকাশ পায়।
লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক