চট্টগ্রামে সন্তানকে মারধরের প্রতিবাদ করতে গেলে এক পিতাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নগরের আকবর শাহ থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে উত্তর কাট্টলী নতুন পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার শিকার নুরুল ইসলাম (৫১) একই থানাধীন কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা। পেশায় তিনি চাকরিজীবী। গুরুতর আহত অবস্থায় গতকালই তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নুরুল ইসলামের মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় আকবর শাহ থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী সানিয়া সুলতানা। এতে রতন কুমার গুহকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত রতন কুমার গুহকে গতকালই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর কথা অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত রতন কুমার গুহ। এদিকে আজ শনিবার দুপুরে হাজির করলে তাকে কারগারে পাঠানোর আদেশ দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
শনিবার বিকেল চারটার দিকে সরেজমিনে বাদীর ভাড়া বাসায় গেলে তার স্কুল পড়ুয়া ছেলে ইশাত জানায়, শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে প্রতিদিনের মতো ক্রিকেট খেলতে পাড়ার বন্ধু অর্ণবকে ডাকতে যান তিনি। অর্ণব পরিবারের সঙ্গে থাকে নতুন পাড়া এলাকার জনৈক খোকন দাশের মালিকানাধীন চারতলা ভবনের প্রথম তলায়। ভবনের মুল ফটকে যেতেই মুরগির বাচ্চা চুরির অভিযোগ তুলে ইশাত ও তার সঙ্গে থাকা আরেক বন্ধু মাহীকে ডিশ লাইনের তার দিয়ে মারধর করেন নিচতলার ভাড়াটিয়া রতন কুমার গুহ।
ইশাত তার বাসায় গিয়ে বিষয়টি তার বাবাকে জানায়। ছেলেকে কেন মারধর করা হয়েছে জানতে রতন কুমার গুহ’র কাছে যান নুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সানিয়া সুলতানা। রতনের কাছে ছেলেকে ডিশের তার দিয়ে মারধরের কারণ জানতে চান নুরুল ইসলাম। এই নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রতন কুমার গুহ ক্ষিপ্ত হয়ে বাসা থেকে রামদা নিয়ে নুরুল ইসলামকে কোপাতে থাকেন। রতনের হামলা থেকে স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে যান স্ত্রী সামিনা। তাকেও রতন হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ সানিয়ার। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বামীকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছি। তার মাথা, হাত ও শরীরে একাধিক কোপের চিহ্ন। আমি রতনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, বলেন সানিয়া।
এদিকে শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা পেশায় কাঠমিস্ত্রি মো. সজীব বলেন, অপরাধ দুজনরই আছে। ছেলেকে মারধর করলে নুরুল ইসলাম সাহেব এলাকায় বিচার দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি এসেই প্রথমে রতনকে মারধর করতে থাকেন। পরে তিনি (রতন) ক্ষিপ্ত হয়ে বাসা থেকে রামদা এনে নুরুল ইসলামকে কোপাতে থাকেন।’ এই প্রসঙ্গে জানতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে শনিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
