যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যা

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ১০ দিন ধরে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তারা ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করছিলেন। গত শুক্রবার হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের (পুলিশ) কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে জামিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়ছে। নিখোঁজ অপর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদার নিহতের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে পুলিশ; তার মরদেহের সন্ধানে অভিযান চলছে বলেও শেরিফের কার্যালয়ের থেকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় হিশাম আবুঘরবেহ (২৬) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জামিলের রুমমেট; তার তথ্যের ভিত্তিতেই জামিলের মরদেহের সন্ধান মেলে। নিহত জামিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। নাহিদা একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জামিল ও নাহিদাকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল দেখা গিয়েছিল। সেদিন জামিলকে সর্বশেষ দেখা যায়, সকাল ৯টার দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তার ছাত্রাবাসে। অন্যদিকে নাহিদাকে সর্বশেষ দেখা যায়, সেদিন সকাল ১০টার দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে। জামিল ও নাহিদার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তাদের এক পারিবারিক বন্ধু পরদিন ১৭ এপ্রিল বিষয়টি কর্র্তৃপক্ষকে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। এরপর তদন্তে নামে  পুলিশ।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া হিশাম ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সাবেক শিক্ষার্থী। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সেখানে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের জন্য পড়াশোনা করেছিলেন। হিশামের বিরুদ্ধে অতীত অপরাধের রেকর্ডও রয়েছে। মারধরের অভিযোগে আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ওই অভিযুক্ত। পারিবারিক সহিংসতার কারণে আদালতের নিষেধাজ্ঞাও ছিল তার ওপর। হিশামকে গ্রেপ্তার করতে সোয়াট টিম এবং ক্রাইসিস নেগোশিয়েটর মোতায়েন করা হয়েছিল। এদিকে, দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর নিহতের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাদের পরিবারে। নিহত জামিল আহমেদ লিমনের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বিনোদটঙ্গী লালডোবা এলাকায়। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তার পরিবার ঢাকায় বসবাস করছে। দেশ রূপান্তরের জামালপুর প্রতিনিধি সরেজমিনে সেখানে গিয়ে জানান, লিমনের মৃত্যুর খবরে স্তব্ধ পুরো গ্রাম। স্বজনরা জানান, লিমন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ভূ-তত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে এক বছর আগে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যান। নিহতের চাচা আল আমিন বলেন, গত বুধবার জামিলের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছিল। পরে বৃহস্পতিবার রাতে জানতে পারি, তার খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ পাওয়া গেছে। খবর শুনেই ঢাকায় বড় ভাইয়ের কাছে চলে এসেছি। লিমনের মা লুৎফুননেছা লতা মুঠোফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল পহেলা বৈশাখে। সেদিন ফোন দিয়ে শুধু জানতে চাইল, পান্তা-ইলিশ খেয়েছি কি না। আমার ছেলের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না’।

শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত। গণমাধ্যমকে তিনি জানান, ফ্লোরিডার স্থানীয় পুলিশ তাদের জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি দুইজনকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং বৃষ্টির মরদেহ নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি সন্দেহভাজনের অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া রক্তের নমুনা থেকে বৃষ্টির ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। ‎নিহত বৃষ্টির বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার চরগোবিন্দপুর এলাকায়। তবে তার বাবা জহিরউদ্দিন দ্বীন মোহাম্মদের চাকরির সুবাদে পরিবারটি ঢাকায় বসবাস করতেন। ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান বৃষ্টি।‎ এ ঘটনায় আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যেও বইছে শোকের মাতম। বৃষ্টির বাবা জহিরউদ্দিন দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, ‘আমার মেয়ে আর বেঁচে নেই, এটা আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এখন আমার একটাই দাবি, আমার মেয়ের মরদেহ যেন উদ্ধার করে দেশে পাঠানো হয় এবং এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত