দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর একই সময়ে ‘সন্দেহজনক’ হামে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৫৮ জন এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ২২৯ জনের। এ নিয়ে সরকারি হিসাবে গত ৪২ দিনে হাম সন্দেহে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। আর হামে মৃত্যু হয়েছে ৪২ শিশুর। মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৫১ জনে। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হামসংক্রান্ত পরিস্থিতির নিয়মিত তথ্য দিচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ৩০ হাজার ৬০৭ জনের শরীরে। আর এ সময়ে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২০ হাজার ৪৭৫ জন। আর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে চার হাজার ৪৬০ জনের শরীরে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৭ হাজার ৮১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১১ শিশুর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ জন, ঢাকায় ৩, সিলেটে ২ এবং রাজশাহী বিভাগে একজন।
অধিদপ্তরের পাঠানো তথ্যে বিভাগওয়ারি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে হামে মৃত্যু ও শনাক্ত সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় ‘সন্দেহজনক’ আক্রান্তের মধ্যে সর্বোচ্চ রোগী পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে, ৫৬২ জন। এর মধ্যে ১৬২ রোগীকে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। এর পরেই রাজশাহী বিভাগে ১৯৫ জন। আর এ বিভাগে নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩৩ জনের মধ্যে ৩০ জনের এবং বরিশাল বিভাগে ৬৭ জনের মধ্যে একজন, খুলনায় ৫৯ জনের মধ্যে চারজন এবং সিলেট বিভাগে ২৮ জনের মধ্যে ২৩ জনের শরীরে নিশ্চিত হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া ময়মনসিংহে ১০ জন এবং রংপুর বিভাগে চারজনের মধ্যে সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেলেও নিশ্চিত কোনো হামের রোগী পাওয়া যায়নি।
সরকারি হিসাবে বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ‘সন্দেহজনক হামে’ সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে ৯৭ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ২৭ শিশুর। এর পরেই রাজশাহী বিভাগে ৬৭ জন, চট্টগামে ২০, খুলনায় ১১, সিলেটে আটজন এবং বরিশালে ছয়জন মারা গেছেন।