চট্টগ্রামের রাউজানে আবারও গুলি করে বিএনপির এক কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল রাউজান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পেশায় কৃষক নিহত বিএনপিকর্মী কাউসারুজ্জামান (৩৬) ওই এলাকার আবুল কালামের ছেলে।
নিহতের পরিবার জানায়, কাউসারুজ্জামান গত দুই বছরে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন। এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা রাখায় তার ওপর এসব হামলা হয়। গত শুক্রবার রাতে দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে সাত থেকে আট অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় তিনি পিঠে গুলিবিদ্ধ হন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। সেখানে চিকিৎসাধীন গতকাল শনিবার ভোরে তিনি মারা যান।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান বলেন, ‘নিহত কাউসারুজ্জামান বিএনপির সমর্থক ছিলেন। তার বড় ভাই যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত। আমরা এই হত্যাকা-ের সুষ্ঠু বিচার চাই।’
রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম জানান, ‘নিহতের পিঠের বাঁ পাশে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি একই ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজার থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে যুবদল নেতা মুহাম্মদ জানে আলমকে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে হত্যা করে। এ ছাড়া গত ২৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে আবদুল মজিদ নামে এক যুবদলকর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজানে রাজনৈতিক হানাহানি ও বিভিন্ন বিরোধে ২২টি হত্যাকা- ঘটেছে। এর মধ্যে ১৬টি হত্যাকা- রাজনৈতিক বিরোধ থেকে। এ সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ।
