কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা: ২৪ ঘণ্টায়ও শনাক্ত হয়নি জড়িতরা

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম

চট্টগ্রাম থেকে গভীর রাতে কুমিল্লায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

শনিবার রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী। রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল মোস্তফা।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল ও আশপাশের বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। নিহতের মোবাইল ফোন, ভিসা কার্ড ও বিকাশ লেনদেনসহ তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, রবিবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বুলেট বৈরাগীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহটি কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগর পাড় এলাকার কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়ের সামনে নেওয়া হলে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। সহকর্মীরা সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

এ বিষয়ে কাস্টমস কমিশনার আবদুল মান্নান সরদার বলেন, ঘটনার পর থেকেই তারা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেন, আমাদের সহকর্মীর অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তার পরিবারের পাশে থাকবে কাস্টমস বিভাগ।

মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন বুলেট বৈরাগীর বাবা সুশীল বৈরাগী। তিনি বলেন, ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। এখন তার নিথর দেহ নিয়ে বাড়ি ফিরছি। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হবে বলে পরিবার জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলের পাশের রাস্তা থেকে বুলেট বৈরাগীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি কুমিল্লা কাস্টমসের বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বুলেট বৈরাগী ৪১তম বিসিএসের নন-ক্যাডার পদে চাকরি করতেন। গত ১১ এপ্রিল প্রশিক্ষণের জন্য চট্টগ্রামে যান। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে প্রশিক্ষণ শেষে বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন। পথে পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার তার কথা হয়।

নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী বলেন, রাত ২টা ২৫ মিনিটের দিকে ছেলে ফোন করে জানায় ও কুমিল্লা শহরের টমছমব্রিজ এলাকায় পৌঁছেছে। এরপর অজ্ঞাত লোকজন তার ফোন ব্যবহার করে কথা বলে। তারপর থেকে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর শনিবার সকালে নিহতের বাবা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। কিছুক্ষণ পরই মরদেহ উদ্ধারের খবর আসে।

এ বিষয়ে ওসি সিরাজুল মোস্তফা বলেন, মামলা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব, ডিবি, সিআইডি ও পিবিআইসহ বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত করছে। আশা করছি, দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত