ঢাবি ছাত্রীর ঝুলন্ত  মরদেহ উদ্ধার শিক্ষক আটক

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৯ এএম

রাজধানীর বাড্ডা এলাকার একটি বাসা থেকে মুনিরা মাহজাবিন মিমো নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামতের ভিত্তিতে ওই বিভাগের শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীকে আটক করেছে পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে পুলিশ। তাতে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো, স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া...।’ মিমোর বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে ওই শিক্ষককে অভিযুক্ত করে বাড্ডা থানায় মামলা করেন।

গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় উত্তর বাড্ডা পূর্বাচল উদয়ন ম্যানশন ১০ নম্বর লেনের ৫৯০ নম্বর বাড়ির নবম তলা থেকে মিমোর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায় থানা পুলিশ। মিমো বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত ছিলেন। তিনি বাড্ডায় বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। মিমোর গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ডাইয়ারচর এলাকায়।

পুলিশ সূত্র জানায়, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করেন বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা। তিনি বলেন, বাসায় দরজা বন্ধ করে পরিবারের সবার অগোচরে ফ্যানের সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন মিমো। টের পেয়ে স্বজনরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় থেকে নিচে নামান। পরবর্তীতে খবর পেয়ে বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মিমো গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে গুলশান জোনের (বাড্ডা) এডিসি জুয়েল দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীকে অভিযুক্ত করে মামলা করেছেন। তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত আলামতের ভিত্তিতে সুদীপ চক্রবর্তীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ওই শিক্ষার্থীর ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুকে হেফাজতে নেওয়া হলেও তার সংশ্লিষ্টতা এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত