২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর আর্থিক দুশ্চিন্তা দূর করতে বড় সুখবর দিয়েছে ফিফা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আয়োজিতব্য এই আসরে যাতায়াত এবং অন্যান্য খরচ অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলো লোকসানের আশঙ্কা করছিল। সেই প্রেক্ষিতে ফিফা প্রাইজমানি এবং অংশগ্রহণ ফি বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার ভ্যাঙ্কুভারে নির্ধারিত ফিফা কাউন্সিল মিটিংয়ে প্রাইজমানি বাড়ানোর এই নতুন প্রস্তাবনাটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ডিসেম্বরে ফিফা রেকর্ড ৭২৭ মিলিয়ন ডলারের প্রাইজ ফান্ড ঘোষণা করেছিল। বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী: ৪৮ দেশের প্রত্যেকটি দল অংশ নেওয়ার জন্য ন্যূনতম ১০.৫ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার কথা। চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৫০ মিলিয়ন ডলার। পরবর্তী রাউন্ডগুলোতে যাওয়ার জন্য ধাপে ধাপে ২ থেকে ৮ মিলিয়ন ডলার করে বোনাস দেওয়ার কথা ছিল।
তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই অংকগুলো আরও বাড়বে। এছাড়া ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত ২.৭ বিলিয়ন ডলারের ডেভেলপমেন্ট ফান্ডও বাড়ানো হচ্ছে।
এবারের বিশ্বকাপের বড় একটি সমস্যা হলো আয়োজক দেশগুলোতে উচ্চ কর। ফিফা নিজে করমুক্ত সুবিধা পেলেও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য সেই সুবিধা নিশ্চিত করতে পারেনি। নিউ জার্সি, যেখানে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে করের হার ১০.৭৫%। লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ফ্রান্সিসকোতে করের হার সর্বোচ্চ ১৩.৩%। বিপরীতে ফ্লোরিডায় (মিয়ামি) কোনো স্টেট ট্যাক্স নেই। এই অসম কর ব্যবস্থার কারণে দলগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয়ে ছিল।
ফিফা মুখপাত্র জানিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের এই চার বছরের চক্রে তাদের মোট আয় হবে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে শুধু এই টুর্নামেন্ট থেকেই আসবে ৯ বিলিয়ন ডলার। সংস্থার এই মজবুত আর্থিক অবস্থানের কারণেই তারা প্রাইজমানি বাড়ানোর অনুরোধে সাড়া দিতে পেরেছে।
ফিফা এক বিবৃতিতে বলেছে, '২০২৬ বিশ্বকাপ বিশ্ব ফুটবল সম্প্রদায়ের জন্য আর্থিকভাবে বৈপ্লবিক ভূমিকা পালন করবে। আমরা আমাদের 'ফিফা ফরওয়ার্ড' প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলকে উপকৃত করতে পেরে গর্বিত।'
'শামীম ক্রিজে এসেই যেভাবে মেরেছে তা অবিশ্বাস্য'