দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে কারখানাটি পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেন। এসময় প্রকল্পের সক্ষমতা যাচাই করতে রেলের ডিজির সঙ্গে এডিবির প্রতিনিধি দলও উপস্থিত ছিল।
কারখানাটি পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, রেলের পরিধি বাড়ছে, রেলওয়ে কোচের সংখ্যও বাড়ছে। আরও ২০০ কোচ ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে। ফলে সৈয়দপুরে রেলওয়ে কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কোচ মেরামতের যে সক্ষমতা রয়েছে তা বাড়িয়ে তিনগুণ করতে চাই। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় যে অবকাঠামো রয়েছে তা বাড়ানো সম্ভব। আমরা কারখানাটি ঘুরে দেখলাম। সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়েছে।
রেলের ডিজি আফজাল হোসেন বলেন, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাটি আধুনিকায়ন করা জরুরী হয়ে পড়েছে। এছাড়া কারখানায় নতুন করে একটি স্বতন্ত্র বগি অ্যাসেম্বল উপকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন এ প্রকল্পটি প্রাথমিক সক্ষমতা যাচাই পর্যায়ে রয়েছে। এটি অর্থায়ন করছে এশীয় ইন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। পরবর্তীতে সরকারি বা বেসরকারি বিনিয়োগকারী খোঁজা হবে। প্রকল্পটি চূড়ান্ত ব্যাস্তবায়ন হলে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় তিনটি ক্যারেজ মেরামতের পরির্বতে ১০টি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা অনেক আগে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে এখানে জনবল ও ইকুইপমেন্ট সংকট থাকায় চাহিদামতো উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এই সংকট দূর করাসহ আধুনিকায়ন জরুরি। আমদানি নির্ভরতা ও ক্রয় জটিলতা কমাতে রেলওয়ে কোচ মেরামতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাতেই তৈরি করা করা হবে। এলক্ষ্যে লোকবল ও যন্ত্রপাতি এবং কাঁচামাল সংকট দূর করে গতি সঞ্চার করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এর আগে তিনি বাংলাদেশে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পরিচালক হোয়ে ইউন জিয়ং সহ কোচ নির্মাণে নতুন ক্যারেজ স্থাপনের স্থানসহ কারখানার বিভিন্ন উপ-সপ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তারা উপস্থিত রেলওয়ের বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে তার সাথে ছিলেন, সহকারী মহাপরিচালক (এডিজি/আরএস) এফ এম মহিউদ্দিন, পঞ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে রাজশাহীর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নুর মোহাম্মদসহ রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
