আখাউড়ায় কালবৈশাখীর আঘাত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

গত কয়েকদিনের তীব্র গরম আর উষ্ণ আবহাওয়ার পর মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ভারী বর্ষণসহ কালবৈশাখী ঝড় হয়েছে। এতে আখাউড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার  বিভিন্ন গ্রামে গাছ পড়ে ঘরবাড়ি-রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-আগরতলা সড়কে যান চলাচল। শহরের অধিকাংশ রাস্তাঘাট মুহূর্তে তলিয়ে যায়। পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পথে বিপাকে পড়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।

সকাল ৭টা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার উত্তরপশ্চিমের আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে অন্ধকার নেমে আসে। এরপর শুরু হয় বজ্রপাতসহ কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাত। এতে আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়ে, যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।

তীব্র ঝড়ে আখাউড়া উপজেলার  নারায়ণপুর, মনিয়ন্দ, ধরখার, আজমপুর, চান্দপুর, কুড়িপাইকা, মোগড়া, নয়াদিল, থানার সামনে, দেবগ্রামসহ  আখাউড়া-আগরতলা সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। আখাউড়া উপজেলার সরকারি হাসপাতালের ভেতরে একটি বৈদ্যুতিক পোল ভেঙে পড়েছে। এতে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছপালা বিধ্বস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশনের কাজের বিঘ্ন হচ্ছে, ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে ইমিগ্রেশনের  কাজ চলছে। 

এদিকে আখাউড়া  উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুদ রানা জানান, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে  ১০০ হেক্টর ধানের জমি হেলে পড়েছে।  ঝড় ও ভারী বর্ষণ থেমে গেলে পানি নেমে যাবে, আশা করি কৃষক তখন ধান গুলে কেটে ফেলতে পারবে। 

সকাল ৯টার দিকে তীব্র ঝড় ও ভারী বর্ষণ শুরু হলে ভোগান্তিতেপড়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। ভারী বর্ষণের কারণে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়। অনেক পরীক্ষার্থী বৃষ্টিতে ভিজে নাকাল হয়ে হলে যান।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাপসী রাবেয়া জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে যেসব  স্থানে ঘরবাড়ি গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি বিধ্বস্ত হয়েছে সেসব এলাকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারনের জন্য মাঠে কর্মকর্তার কাজ করছেন। ক্ষয়ক্ষতি তালিকা তৈরী হলে জানানো হবে।  

অপরদিকে, ভারী বর্ষণের কারণে শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পৌরবাসী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত