বায়ার্ন-পিএসজি ৯ গোলের পাগলাটে লড়াই

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৪ এএম

ফুটবল কি সত্যিই এমন হতে পারে? পার্ক দ্য প্রিন্সেসে বায়ার্ন মিউনিখ এবং পিএসজি যা উপহার দিল, তা কেবল একটি ম্যাচ নয়, যেন এক উচ্চমার্গীয় শিল্পকলা। ৯ গোলের এই থ্রিলারে আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের শ্বাস নেওয়ার সুযোগটুকুও ছিল না। ৫-৪ ব্যবধানের এই ফল যেন কোনো স্ক্রিপ্ট করা মুভির ক্লাইম্যাক্সকেও হার মানায়। প্যারিস এখন এক গোলের লিড নিয়ে মাঠ ছাড়লেও, এই ‘অর্ধসমাপ্ত’ রোমাঞ্চের চূড়ান্ত ফয়সালা হবে আগামী সপ্তাহে বায়ার্নের ঘরের মাঠে।

পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থেকে দলের রক্ষণ সামলানো ৩১ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক মার্কিনহোস ম্যাচটিকে এককথায় ‘পাগলাটে’ বলে অভিহিত করেছেন ‘কোনো ফুটবল ভক্ত এই ধরনের ম্যাচ পছন্দ করবেন। এটি একটি পাগলাটে ম্যাচ ছিল। দুটি দলই সমানে সমান, আক্রমণাত্মক এবং তীব্র গতিতে খেলেছে।’ আগামী সপ্তাহের ফিরতি লেগ নিয়েও সতর্ক মার্কিনহোস, ‘আগামী সপ্তাহেও এমন পাগলাটে লড়াই হবে। আমাদের একই মানসিকতা নিয়ে নামতে হবে।’

কেন-এর পেনাল্টি ও কাভারাৎস্কায়ার তান্ডব : ম্যাচের ১৭ মিনিটে প্রথম বড় ধাক্কাটি খায় পিএসজি। লুইস দিয়াজকে ডিবক্সের ভেতর ফাউল করেন উইলিয়ান পাচো। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে হ্যারি কেন অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় গোল করে বায়ার্নকে ১-০ তে এগিয়ে দেন।

পিএসজি সমতায় ফিরতে বেশিক্ষণ সময় নেয়নি। ২৪ মিনিটে জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড খভিচা কাভারাৎস্কায়া বাম প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে যখন বায়ার্নের রক্ষণভাগে ঢুকলেন, তখন তাকে আটকানোর সাধ্য কারও ছিল না। জিগ-জ্যাগ মুভমেন্টে ডিফেন্ডারদের ছিটকে দিয়ে এক কোনাকুনি শটে বল জালে জড়ান তিনি।

প্রথমার্ধের নাটকীয় মোড় : ৩০ মিনিটে পিএসজি লিড নেয়। একটি কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দুর্দান্ত এক হেডার করেন তরুণ জোয়াও নেভেস।  ৪১ মিনিটে মাইকেল অলিসে আবারও তার জাদুর কাঠি নাড়লেন। চারজন ডিফেন্ডারের ভিড়েও বল নিয়ে দারুণ এক ড্রিফটে জায়গা করে নিয়ে কোনো ব্যাকলিফট ছাড়াই বুলেট গতির শটে গোল করেন তিনি। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২। বিরতির ঠিক আগে পিএসজি আবার পেনাল্টি পায় আলফোনসো ডেভিসের হ্যান্ডবলে। উেসমান দেম্বেলে গোল করলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পিএসজি।

পিএসজির দাপট ও বায়ার্নের পতন : ৫৬ মিনিটে আশরাফ হাকিমির ক্রস থেকে বল পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কাভারাৎস্কায়া। এর ঠিক দুই মিনিট পর (৫৮ মিনিটে) উসমান দেম্বেলে আবারও চমক দেখান। ডিফেন্ডারদের নাচিয়ে একঝটকায় ভেতরে ঢুকে গোলপোস্টের কোনা দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি।

বায়ার্নের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন : সবাই যখন পিএসজির বড় জয়ের অপেক্ষা করছিল, তখনই ঘুরে দাঁড়ায় বায়ার্ন। ৬৪ মিনিটে এক ফ্রি-কিক থেকে হেডে গোল করেন দাওত উপামেকানো। এর চার মিনিট পরেই হ্যারি কেনের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে লুইস দিয়াজ স্কোর ৫-৪ করে দেন। গ্যালারিতে তখন পিনপতন নীরবতা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত