ফরিদপুরে দাদি ফুফ ও প্রতিবেশীকে খুন

ঘাতক গ্রেপ্তার, মানসিক বিকারগ্রস্ত বলছে পুলিশ

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৩ এএম

ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে মোল্লাবাড়ীতে সংঘটিত তিন খুনের ঘাতক আকাশ মোল্লাকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-পুলিশের যৌথ বাহিনী। জিজ্ঞাসাবাদে আকাশ খুনের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ হত্যাকা- সম্পর্কে গত মঙ্গলবার দুপুর ২টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম। গত সোমবার রাত ৯টার দিকে শহরতলির গদাধরডাঙ্গী গ্রামের হারুন মোল্লার ছেলে আকাশ মোল্লার হাতে খুন হন তার আপন দাদি আমিনা বেগম (৮০), ফুফু রাহেলা বেগম (৫৫) ও পার্শ্ববর্তী বাড়ির হতদরিদ্র রিকশাচালক কাবুল হোসেন (৪৯)। মর্মান্তিক এ হত্যাকা-ে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হারুন মোল্লা ৫ সন্তান, মা ও স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করেন। তার অন্য সন্তানরা বিভিন্ন কাজকর্ম করলেও আকাশ মোল্লা তেমন কোনো কাজকর্ম করত না। বিগত কয়েক বছর আগে সে শহরের টিবি হাসপাতালে চাকরি করত। কিন্তু মাঝে মধ্যেই সে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ত। এ জন্য তাকে বিয়েও দেওয়া হয়নি। তাকে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

ঘটনার দিনগত রাতে আকাশ মোল্লার সঙ্গে তার দাদি আমিনা বেগমের কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জের ধরে দাদিকে কোদাল দিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় আমিনা বেগমের মেয়ে রাহেলা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকা-ের সময় চিৎকার ভেসে এলে রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী কাবুল হোসেন (৪৯), রিয়াজুল মোল্লা (৩৬) ও আরজিনা বেগম (৪৫) বাড়ির ভেতর ছুটে গেলে তাদের আক্রমণ করে আকাশ। এ সময় কাবুল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় রিয়াজুল আকাশকে জাপটে ধরেন। একপর্যায়ে রিয়াজুল ও আরজিনা বেগম দৌড়ে পালাতে সক্ষম হন। এর পর আকাশ পিটিয়ে কাবুলকে হত্যা করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দিলে রাত ১২টার দিকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ তিনটি উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

এদিকে হত্যাকা-ের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ভিড় করেন হারুন মোল্লার বাড়িতে। স্বজনদের কান্নায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

র‌্যাব-পুলিশের কয়েকটি দল রাতভর অভিযান চালিয়ে ঘাতক আকাশকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ঘটনাস্থলের কিছুটা দূরে লিয়াকত মোল্লার কলাবাগান থেকে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ হেফাজতে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

আকাশের আক্রমণ থেকে বেঁচে যাওয়া রিয়াজুল মোল্লা বলেন, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় চিৎকার চেচামেচি শুনে বাড়ির ভেতরে যাওয়ার পরপরই দেখতে পাই দুই নারীর লাশ পড়ে আছে। কোদাল নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে আকাশ। আমি ও কাবুল সেখানে যাওয়া মাত্রই আমাদের ওপর সে হামলা চালায়। আমাকে আঘাত করার পরপরই আমি তাকে জাপটে ধরি। কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তি হওয়ার পর পালিয়ে আসি।

জানা যায়, হত্যাকা-ের শিকার হওয়া প্রতিবেশী কাবুল হোসেন পেশায় রিকশাচালক। তিনি ছিলেন হতদরিদ্র পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এক মাস আগে কাবুল হোসেনের ছেলে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। কাবুলের স্ত্রী  কোহিনূর বেগমের দাবি, আকাশ তার দাদি ও ফুপুকে হত্যা করার পর ঠা-া মাথায় কাবুল হোসেনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। এ পরিবারটি উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

ঘাতক আকাশ মোল্লার বাবা হারুন মোল্লা বলেন, তার ছেলে আকাশ মানসিক ভারসাম্যহীন। মাঝে মধ্যেই সে পাগল হয়ে যায়। তার চিকিৎসাও চলছে।

স্থানীয়রা জানান, আকাশ এলাকায় কারও সঙ্গেই মিশত না। মাঝে মধ্যেই সে উল্টাপাল্টা কাজ ও পাগলামি করত। ফলে সবাই তাকে এড়িয়ে চলত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত