২০২৮ সালে ইইউ সদস্যপদের পথে মন্টেনিগ্রো, ১৪ বছরের অপেক্ষার শেষ ধাপে....

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৫ এএম

দীর্ঘ ১৪ বছরের প্রতীক্ষার পর অবশেষে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলকান অঞ্চলের ছোট কিন্তু কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র মন্টেনিগ্রোর। দেশটি ২০২৮ সালের মধ্যে ইইউর ২৮তম সদস্য রাষ্ট্র হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতি এবং ব্রাসেলসের ইতিবাচক অবস্থানকে কেন্দ্র করে দেশটিতে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

ইইউভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা মন্টেনিগ্রোর সদস্যপদ চুক্তির খসড়া প্রস্তুতের জন্য একটি বিশেষ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মত হন। ইউরোপীয় কূটনৈতিক মহলে এ সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এটি সাধারণত চূড়ান্ত সদস্যপদ আলোচনার পূর্বধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইদা গর্চেভিচ এই অগ্রগতিকে ব্রাসেলস থেকে আসা চমৎকার সংবাদ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এটি প্রমাণ করে মন্টেনিগ্রো সঠিক দিকেই এগোচ্ছে এবং ২০২৮ সালের লক্ষ্য অর্জন এখন আর কল্পনা নয়, বরং বাস্তবসম্ভব একটি পরিকল্পনা। ইউরোপীয় কমিশনও মন্টেনিগ্রোর অগ্রযাত্রাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। যদিও কমিশনের কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, ২০২৮ সালের সময়সীমা বেশ উচ্চাভিলাষী। কারণ সদস্যপদ পাওয়ার আগে বিচারব্যবস্থা সংস্কার, দুর্নীতি দমন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হবে। তবুও সামগ্রিকভাবে মন্টেনিগ্রোকে পশ্চিম বলকান অঞ্চলের সবচেয়ে প্রস্তুত প্রার্থী দেশ হিসেবে ধরা হচ্ছে। 

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো মন্টেনিগ্রোর এখনো ইইউ সদস্য না হলেও ২০০২ সাল থেকেই ইউরো মুদ্রা ব্যবহার করে আসছে। অর্থাৎ দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোজোনে না থেকেও ইউরোপীয় অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মন্টেনিগ্রোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ইউরোপমুখী নীতির একটি স্পষ্ট প্রতীক। ২০১৩ সালে ক্রোয়েশিয়া ইইউতে যোগদানের পর পশ্চিম বলকান অঞ্চলের আর কোনো দেশ সদস্য হতে পারেনি। বর্তমানে মন্টেনিগ্রো এবং আলবেনিয়া সদস্যপদের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। 

অন্যদিকে সারবিয়া, বসনিয়া, হার্জেগোভিনা, উওর মেসিডোনিয়া ও কসোবো এখনও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতায় পিছিয়ে আছে। ২০০৬ সালে মন্টেনিগ্রো স্বাধীনতা গণভোট এর মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভের পর মন্টেনিগ্রো দ্রুত ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে। আড্রিয়াটিক সাগর তীরবর্তী এই পাহাড়বেষ্টিত দেশটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পর্যটন খাত, সমুদ্রবন্দর, জ্বালানি সম্ভাবনা এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইউরোপে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মন্টেনিগ্রো ইইউ সদস্য হলে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়বে, রাশিয়া ও অন্যান্য বহিরাগত প্রভাব কমবে এবং ইউরোপীয় বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে অবকাঠামো, পর্যটন, শ্রমবাজার এবং বিনিয়োগ খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যও এর তাৎপর্য রয়েছে। কারণ নতুন সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে নির্মাণ, সেবা, পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়ে। ফলে ভবিষ্যতে ইউরোপে কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন পথ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্টেনিগ্রো ২০২৮ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। ইইউ সম্প্রতি সদস্যপদ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে একটি বিশেষ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে। যদিও সময়সীমা নিয়ে কিছু সংশয় আছে, তবে দেশটির সংস্কার অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত