ভোট নয় তামিম ব্যস্ত অবকাঠামো উন্নয়নে

আপডেট : ০১ মে ২০২৬, ০৬:০৯ এএম

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন ২০১৮ এর ধারা ২১ অনুযায়ী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। তামিম ইকবালকে সভাপতি করে গঠন করা ১১ সদস্যের এই অ্যাডহক কমিটিকে ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখের ভেতরে নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে পরিষদ। তবে দায়িত্ব গ্রহণের ২১ দিনের মধ্যে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটি নির্বাচন আয়োজন কিংবা স্বাধীন তদন্ত কমিটির সুপারিশকৃত সংশোধনগুলো বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। বরং এই অ্যাডহক কমিটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, খেলোয়াড়দের বেতন বৃদ্ধিসহ অনেকগুলো নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা সরকারি প্রজ্ঞাপনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ক্রীড়া পরিষদের প্রজ্ঞাপনে লেখা রয়েছে ‘স্বচ্ছ সুস্পষ্ট নির্বাচন অনুষ্ঠান ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হলো’। তামিম ক্রিকেটারদের বেতন বৃদ্ধি, ক্যাপটেন’স কার্ড প্রচলন, জাতীয় লিগের বিভাগীয় দলগুলো দ্বিতীয় একাদশ গঠন, বলবয় নিয়োগ প্রথা ফিরিয়ে আনাসহ অনেক কর্মকা-ই পদাধিকার-বলে করছেন যা বিসিবির দৈনন্দিন কর্মকা- নয় বরং নীতিগত ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত যা নেওয়ার এখতিয়ার নির্বাচিত বোর্ডের।

গত বছরের ৬ অক্টোবর বিসিবির সবশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যে নির্বাচনের মাধ্যমে আমিনুল ইসলাম বুলবুল সভাপতি ও আরও ২২ জন পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন। নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগে এই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বোর্ড ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ভেঙে দেয় এনএসসি। বৃহস্পতিবার নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে গঠিত ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী। আবেদনকারীদের একজন আইনজীবী মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, ২০১৮ সালের এনএসসি আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী বিশেষ পরিস্থিতিতে, যেমন কোনো কমিটি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বা স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে, অ্যাডহক কমিটি গঠন করা যেতে পারে। তবে বিসিবির নির্বাচিত কমিটির ক্ষেত্রে এমন কোনো অভিযোগ বা প্রমাণ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই কমিটি ভেঙে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আইনসম্মত নয়। রিট আবেদনে ৭ এপ্রিলের ওই সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় অ্যাডহক কমিটি গঠন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

নির্বাচন দেওয়ার জন্য বা আগের নির্বাচনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধে তামিম কী পদক্ষেপ নিয়েছেন জানতে চাইলে গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেন, ‘দেখেন যখন আমরা একটা নির্বাচন দিতে যাব, আপনে লিগ্যালি অনেক অপিনিয়ন নিতে পারেন। লিগ্যালি আমরা একটা দুইটা অপিনিয়ন অলরেডি পেয়ে গিয়েছি। প্রশ্নবিদ্ধ যে জিনিসটা, বিগত সব নির্বাচনে জেলা ও বিভাগ থেকে যারা আসত (পরিচালক), এটা বাধ্যতামূলক করাটা (অ্যাডহক কমিটি থেকে) আমরা ঠিক মনে করি না। অ্যাডহক কমিটি করে দেব, ওখান থেকেই নিতে হবে, আপনার সাপোর্টের জন্য যখন ইচ্ছা তখন পরিবর্তন করে কাউকে ঢুকিয়ে দেবেন, এসব নিয়ে কিন্তু বিগত সময়ে আমরা অনেক কিছু বলেছি। সঠিকভাবে একটা নির্বাচন আগেও যেমন হয়েছে, আমরা সবকিছু বজায় রেখে যেভাবে একটা নির্বাচন হওয়া উচিত আমরা সেভাবে করেই করব।’ সবশেষ নির্বাচনে আলোচনায় ছিল পোস্টাল ব্যালট। ভোটারদের ঢাকার একটি হোটেলে নিয়ে অনেকটা জোরপূর্বক নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে। অনেকেই পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়ে ভোটের দিন সশরীরে ভোটকেন্দ্রে ঘুরে বেড়িয়েছেন! তবে তামিম ইঙ্গিত দিলেন পোস্টাল ব্যালট থাকবে, ‘তবে পোস্টাল ব্যালট যদি সবাই মিলে একটা রুমের ভেতরে বসে যদি করে তাহলে সেটা প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাপার। আপনি কীভাবে ক্ষমতার প্রয়োগ করবেন সেটা আপনার ব্যাপার। যখন নির্বাচন কমিশন গঠন হয়ে যাবে এটা তখন তাদের মাথাব্যথা। সিস্টেমে তো অনেক কিছুই থাকে, অনেক কিছুকে আপনি কীভাবে ব্যবহার করছেন এটার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে।’

বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে তামিম জানিয়েছেন, মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ছাদে ছাউনি নির্মাণ, সৌরবিদ্যুত্যের ব্যবহার বাড়িয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সোলার প্যানেল স্থাপন, কাউন্টি ক্রিকেটের আদলে জাতীয় দলের সঙ্গে একটি দ্বিতীয় একাদশ গঠন, যে দলটি সমান্তরালে একটি তিন দিনের ম্যাচ খেলবে। একই সঙ্গে জানিয়েছেন তার নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটির হাতে যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব, সেই নির্বাচনে তিনি বিসিবি সভাপতি হতে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এই প্রক্রিয়াতে গঠনতন্ত্রে কোনো বাধা নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত