গাজামুখী নৌবহরে ইসরায়েলি অভিযান

আপডেট : ০১ মে ২০২৬, ০৬:৪১ এএম

ভূমধ্যসাগরের মাঝপথে গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটকে দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আয়োজক কর্র্তৃপক্ষ এবং ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ড্রোন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রযুক্তি এবং সশস্ত্র অভিযানের মাধ্যমে এ বহরকে আটকানো হয়। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েলি সামরিক স্পিডবোটগুলো তাদের ঘেরাও করে লেজার ও সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র তাক করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের জাহাজের সামনে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে থাকতে বাধ্য করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তারা অভিযোগ করেছে, ইসরায়েলি বাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় ফ্লোটিলাটিকে অবৈধভাবে ঘিরে ফেলেছে এবং অপহরণ ও সহিংসতার হুমকি দিচ্ছে।

বহরের মোট ৫৮টি জাহাজের মধ্যে ১১টির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানায়, গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে বহরের ৭টি জাহাজ ইতিমধ্যে জব্দ করেছে তাদের সেনারা। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, আমাদের এলাকায় পৌঁছানোর আগেই বহরটিকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি সেনারা ‘মনোযোগ আকর্ষণে মরিয়া বিভ্রান্ত উসকানিদাতাদের’ মোকাবিলা করছে। ফ্লোটিলার মুখপাত্র গুর সাবর আলজাজিরাকে বলেন, ইসরায়েল থেকে শত শত মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরস্ত্র বেসামরিক জাহাজের ওপর এই হামলা সরাসরি জলদস্যুতা। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইনে এটি অবৈধ। এই জলসীমায় ইসরায়েলের কোনো এখতিয়ার নেই। এসব নৌযান তাদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া অবৈধ আটক হিসেবে গণ্য হয় গভীর সমুদ্রে যা সম্ভাব্য অপহরণের শামিল। বহরটিতে ৪০০-এর বেশি বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন উল্লেখ করে সাবর আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতে সব দেশের সরকারের এখন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এই মুহূর্তে নীরব থাকা মানে এই অপরাধের অংশীদার হওয়া।

ফ্লোটিলার একটি নৌযানে থাকা লেখক ও অধিকারকর্মী তারিক রা’উফ আলজাজিরাকে বলেন, বড় বড় ইসরায়েলি সামরিক জাহাজ দিয়ে পুরো বহরকে ঘিরে ফেলা হয়েছে, যেগুলো থেকে পরে রিজিড ইনফ্ল্যাটেবল বোট (আরআইবি) বা শক্ত কাঠামোর ছোট আকারের রাবারের নৌকা মোতায়েন করা হয়েছে। ইসরায়েলের এই অভিযান কয়েক ঘণ্টা ধরে চলেছে বলেও জানান তারিক। তিনি বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক জলসীমায় রয়েছি। তাই সত্যি বলতে, বাস্তবে, এটা ইসরায়েলের একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ। কারণ, আমরা গাজার কাছাকাছিও নেই।’ এবার ফ্লোটিলা গাজা থেকে আনুমানিক ৬০০ নটিক্যাল মাইল (১ হাজার ১১১ কিলোমিটার) দূরে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আলজাজিরার সাংবাদিক জ্যাক বার্টন বলেন, এর আগে কোনো ত্রাণবাহী ফ্লোটিলাকে ইসরায়েল সর্বোচ্চ ৭২ নটিক্যাল মাইল (১৩৩ কিলোমিটার) দূরত্বে আটক করেছিল। ইতালির উপকূল থেকে গত রবিবার বিভিন্ন দেশের অধিকারকর্মীদের নিয়ে নৌবহরটি যাত্রা শুরু করে। আয়োজকদের ভাষায়, এটি এখন পর্যন্ত গাজায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা সবচেয়ে বড় মানবিক সহায়তাবাহী ফ্লোটিলা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত