সীতাকুণ্ডে গ্যাস লিকেজ

কাজের সন্ধানে চট্টগ্রামে, সহকর্মীদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল খোকনের

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
পরিবারের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে পাঁচ মাস আগে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামে আসেন খোকন মিয়া। মাসখানেক পর শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন 'ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে'। সেখানে তার কাজ ছিল নাট বল্টু খোলা, লোহা-লঙ্কর আনা নেওয়া করাসহ এ ধরনের কাজ। জাহাজটি যেখানে কাটা হচ্ছিল সেখান থেকে তার অবস্থান ছিল কিছুটা দূরে। বিষক্রিয়া শুরু হওয়ার পর সেখানে উদ্ধারে ছুটে যান। এরপর বিষক্রিয়া তারও মত্যু হয়।
 
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে এসব কথা বলেন খোকন মিয়ার ফুফাতো ভাই রোমান মিয়া। তিনি বিমানবন্দরে আনসার সদস্য হিসেবে কর্মরত। বাড়ি থেকে মুঠোফোনে খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন। পরে মামাতো ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পান।
শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারী স্টেশন রোডসংলগ্ন সাগর উপকূলে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজ থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এসময় বিষক্রিয়ায় খোকন মিয়াসহ নয়জনের মৃত্যু হয়।
 
রোমান মিয়া বলেন, খোকন চার মাস ধরে এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতো। তার বয়স ২৩ বছর। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও তিন বছরের একটা সন্তান আছে। পরিবারের বেহাল দশা বলে সে চট্টগ্রামে এসেছিল পরিবারের ভাগ্য চাকা ঘোরাতে। তবে সে নিজেই এখন না ফেরার দেশে চলে গেল। 
 
রোমান মিয়া বলেন, পাঁচ মাস আগে বাড়ি থেকে আসার পর সে আর বাড়ি যায়নি। কিছুদিন পর ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন মরদেহ হয়েই ফিরবে।
 
খোকন মিয়াকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা আঙ্গর আলী। তিনি নিজেও এই পেশায় জড়িত। আঙ্গর আলী বলেন, আজ আমার কাজ ছিল না। শোরগোল শুনে দৌঁড়ে গিয়ে দেখি সবার খুব খারাপ অবস্থা। খোকন মিয়াকে এক জায়গায় এনে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে আমি মেডিকেল নিয়ে আসি। পরে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত