প্রচ্ছদ রচনা

শহীদ কাদরীর জীবন ও কবিতা

মাত্র ১৪ বছর বয়সে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায় কবিতা প্রকাশ, অল্প কয়েকটি বইয়ে বাংলা কবিতায় স্থায়ী আসন, দীর্ঘ প্রবাসজীবন মিলিয়ে শহীদ কাদরীর জীবন ছিল অনেকটাই নিজের তৈরি উপাখ্যান। ‘নাগরিক কবি’ অভিধাটিও তার সঙ্গে এমনভাবে মিশে গেছে যে, এখন তাকে আলাদা করে ভাবা কঠিন

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

কবি শহীদ কাদরীর সঙ্গে আমার প্রথম কথা হয় ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে। তিনি তখন আমেরিকার বোস্টন শহরে আর আমি নিউ ইয়র্কে। নিউ ইয়র্ক তথা উত্তর আমেরিকা থেকে নিয়মিত প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক দিগন্ত’র বর্ষপূর্তি সংখ্যার প্রস্তুতি চলছে। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে আমি তার কাছে একটি কবিতার অনুরোধ করি। তিনি সানন্দে ‘তৃতীয় রাইখের পতনের আগে’ (পরে তিনি কবিতাটির শিরোনাম বদলে দিয়েছিলেন) এই শিরোনামে একটি কবিতা পাঠিয়ে দেন। এরপর প্রায় প্রতি সপ্তাহে শুরু হয় আমাদের কথা বলা। আমাদের কথা যে কোনো বিষয় নিয়ে শুরু হলেও তা শেষ হতো কবিতা দিয়েই। গল্প করে মানুষকে মুগ্ধ করে রাখার ঈর্ষণীয় ক্ষমতা ছিল তার। তা হোক টেলিফোনে কিংবা মুখোমুখি বসে। তিনি কথা বলতেন রাজনীতি, বাংলা সাহিত্য, বিশ্বসাহিত্য, এমন কি বিজ্ঞান নিয়েও। রেস্তোরাঁয়, বাসার ড্রইংরুমে, রাত কিংবা দিন কোনো কিছুই তাকে আড্ডায় পরাস্ত হতে দেখেনি কেউ।

তিনি জন্মেছেন কলকাতায়, শৈশব ও যৌবনের প্রথম ভাগ কেটেছে ঢাকায়, তারপর লন্ডন ও বার্লিনে। এরপর আটলান্টিক পার হয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন আমেরিকার বোস্টন শহরে এবং সবশেষে তৃতীয় স্ত্রীসহ নিউ ইয়র্কে। বোস্টন থাকাকালীন মাঝে মাঝে নিউ ইয়র্ক আসতেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। এ সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান না হলে তিনি কোথাও যেতে চাইতেন না। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত এ রকম এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে আসেন ২০০২ সালের সেপ্টেম্বরে এবং আমার বাসায় তিন দিন অবস্থানকালে তার একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার (প্রথম আলো পত্রিকার অনুরোধে) নিতে সমর্থ হই। এর আগে বহুবার তাকে দেখেছি, আড্ডাও দিয়েছি কিন্তু এবারে তার নিত্যদিনের অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন চোখে পড়ে। সারাদিন শুধু চা খেতে চাইতেন আর মাঝে মাঝে সিঙারা। অনুষ্ঠান শেষে বোস্টন ফিরে গিয়ে জানালেন তার মরণ ব্যাধির কথা। আর তার ছোবলই তাকে কেড়ে নিল (আগস্ট ২৮, ২০১৬) আমাদের সবার কাছ থেকে।

কবি শহীদ কাদরীর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা পাঁচটি। উত্তরাধিকার, তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা, ও কোথাও কোন ক্রন্দন নেই—এই তিনটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি দেশ ছেড়ে চলে যান বিদেশে। দীর্ঘ বিরতির পর তার চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও প্রকাশিত হয় ২০০৯ সালে। আর তার সবশেষ কবিতার বই গোধূলির গান প্রকাশিত হয় তার মৃত্যুর পর ২০১৭ সালে এবং এই বইয়ের অধিকাংশ কবিতাই তিনি লিখেছেন ২০০৯ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে। সবাইকে চমকে দিয়ে, ২০২৪ সালে প্রকাশিত হয় বিভিন্ন সময়ে লেখা গদ্যগুলো নিয়ে গদ্য সংগ্রহ এবং উইলিয়াম ফকনারের উপন্যাস দ্য ওল্ড ম্যান (আবর্ত)-এর বাংলা অনুবাদ। কবি শহীদ কাদরী কবিতা লিখে যে খ্যাতি অর্জন করেছেন তা তার প্রথম তিনটি বইয়ের জন্যই। আর অন্য বইগুলো তার স্মৃতিকে সংগ্রহে রাখার জন্য হলেও জরুরি বলেই আমি মনে করি। কথায় কথায়, আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও প্রকাশিত হওয়ার পর জানতে চেয়েছিলাম তাঁর অনুভূতি। তিনি বলেছিলেন, ‘তেমন বিশেষভাবে আন্দোলিত হইনি। মনে হয়েছে, আরও প্রস্তুতি নিয়ে আমার চতুর্থ বই বের করা উচিত ছিল। কিছু কিছু কবিতার পুনর্মার্জনা করার দরকার ছিল—তখন বেশ অসুস্থ ছিলাম। কবিতা পুনর্মার্জনা করার সময় ইন্দ্রিয়ের ওপর যে চাপ পড়ে তা আমার পক্ষে সহ্য করা সম্ভব ছিল না।’ (নতুনধারা, ১৫ আগস্ট ২০১২) এবং একই আড্ডায় নাট্যকর্মী মুজিব বিন হক জানতে চেয়েছিলেন, উত্তরাধিকার থেকে আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও এই দীর্ঘ যাত্রায় আপনার কবিতায় কোনো পরিবর্তন দেখতে পান কি-না? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, পরিবর্তন আমি দেখি—কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন দেখি—বক্তব্যের পরিবর্তন দেখি। উত্তরাধিকারের কবিতাগুলো যখন লিখছিলাম তখন বিশেষভাবে বাজার অর্থনীতি এবং শ্রেণিসাম্য, অভাবগ্রস্ত সমাজে যে পাপবোধ জন্মায় মানুষের মধ্যে ওটাকে কবিতায় ধরার চেষ্টা করেছি। বুর্জুয়া সমাজব্যবস্থাকে আমি কোনো কোনো কবিতায় বাতিল করেছি। যেমন ‘আমি কিছুই কিনব না’—একটা উদাহরণ : দেখব, শুনব, কিন্তু কিছুই কিনব না (নতুনধারা, ১৫ আগস্ট ২০১২)।

কাদরীর সঙ্গে মেলামেশা করে বুঝেছি, তার ভবিষ্যৎ এবং জাগতিক বিষয়গুলো নিয়ে কখনো কোনো কথাই বলতেন না তিনি। এসব নিয়ে তিনি চিন্তিতও ছিলেন না মোটেই। গ্রামবাংলার মানুষ ও তাদের জীবন নিয়ে কবিতা লিখে জসীম উদ্দীন পল্লী কবি উপাধি পেয়েছিলেন। একইভাবে শহীদ কাদরী আজীবন নগর জীবন নিয়ে কবিতা লিখে সবার কাছে নাগরিক কবি হিসেবেই পরিচিত হন। অনেকেই তাকে জিজ্ঞেস করতেন, গ্রাম নিয়ে কবিতা লেখেন না কেন? হাসতে হাসতে বলতেন, ‘আরে মিয়া, গ্রাম তো আমি ভালো করে দেখিই নাই, কবিতা লেখব কেমন করে’। নিজের লেখার প্রতি তার বিশ্বাস একটুও নড়বড়ে ছিল না। তার ‘বৃষ্টি, বৃষ্টি’ কবিতাকে তিনি প্রায়শ জোর গলায় বলতেন, ‘দিস ইজ মাই ওয়েস্টল্যান্ড’। ভালো কবিতা লিখতে কী কী জিনিস দরকার হয় এর সঠিক উত্তর কেউই দিতে পারে নাই। খুব অল্প বয়সে ‘বৃষ্টি, বৃষ্টি’র মতো কবিতা লিখে এবং মাত্র ১৪ বছর বয়সে ‘কবিতা’ (বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত) পত্রিকায় কবিতা ছাপিয়ে ফেলেন, তখন আমরা বিস্মিত না হয়ে পারি না। তিনি লিখেছেন কম, এ নিয়ে কম কথা শুনতে হয়নি তাকে। তাদের জন্য তার কথা ছিল একদম সোজাসাপটা। পৃথিবীর অনেক বড় বড় কবিদের বইয়ের সংখ্যা দুটো। যিনি আধুনিক কাব্যের জনক—বোদলেয়ার, তার দুটো মাত্র বই। একমাত্র রবীন্দ্রনাথের অনন্য দৃষ্টান্তের জন্য কবিরা আজকাল ৬০-৭০টি বই লেখেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একজন কবির ৭-৮টি কবিতাই পাঠকমহলে গৃহীত হয়। আমি সেই পরিমাণ কবিতা লিখে ফেলেছি। তাকে অহংকারী মনে হলেও হতে পারে কিন্তু অনেকের কাছে এটা সত্যের মতো মনে হবে বলে আমার ধারণা। আজকাল নিউ ইয়র্কসহ প্রবাসের বিভিন্ন শহরে কবিদের সংখ্যা কিন্তু উল্লেখ করার মতো। এরা নিয়মিত এবং অনিয়মিতভাবে কবিতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন। এদের মধ্যে অনেকের লেখা দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে। এটা বাংলা সাহিত্য বিকাশে একটা পরিবর্তন বলে আমি মনে করি। 

‘আজকের কবিদের দৃষ্টি শুধু নিজের দেশের গ্রামের মধ্যে থাকলে চলবে না, আরও বিস্তৃত হতে হবে। ইংল্যান্ড আমেরিকায় বসে যদি আধুনিক বিশ্বের ব্যাপার-স্যাপারগুলো নিজেদের মধ্যে আত্মস্থ করেন এবং লেখেন তাহলে আমাদের কবিতা আরও সমৃদ্ধ হবে। আমি মনে করি, ইতিমধ্যে এই উত্তর আমেরিকাতেই দু-একজন বেশ প্রতিভাবান কবি এসেছেন—যাদের ভবিষ্যতের ওপর আমার অনেক আস্থা রয়েছে... তিনি আরও বলেন, আজকের দিনে অশিক্ষিত পটুত্বে কাজ হয় না। শিক্ষিত পটুত্বের মধ্যে যে সম্ভাবনা আছে সে সম্ভাবনা অসীম।’ শিক্ষিত পটুত্বের কথা বলতে গেলে যে কথাটা আমার কানে বাজে খুব তা হলো প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া। আমাদের দেশের অনেক কবি সরাসরি তিরিশের কবিদের অনুসরণ ও অনুকরণ করে থাকেন। কিন্তু সত্য এই যে, তিরিশের কবিগণ প্রায় সবাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় আমাদের দেশের কবিদের চেয়ে অনেকটাই অগ্রসর। প্রসঙ্গক্রমে বলতেই হয় যে, আমাদের দেশের অধিকাংশ জনপ্রিয় (এবং বিখ্যাত) কবিই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে পাশ কাটিয়ে গেছেন। এই অবস্থা চলমান থাকলে আমাদের সাহিত্য জগৎ ক্রমেই উন্নতির চেয়ে অবনতির দিকে বাঁক নিতে থাকলে বিস্মিত হওয়ার কিছু থাকবে না।

কবি লিখতে গিয়ে সচেতনভাবে কিংবা অসচেতনভাবে কখনো কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়েন। কাদরীর কবিতা মনোযোগ দিয়ে পড়লে বোঝা যায়, তিনি এককভাবে কারও দ্বারা প্রভাবিত হননি। তিনি সামগ্রিকভাবে মার্ক্সবাদী কবিতা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। যেখানে সাম্যবাদের কথা আছে, শ্রেণি সংঘর্ষের কথা আছে—এমনকি পরবর্তী সময় তিনি কবিতা ছাড়াও প্রবন্ধ থেকে বাঁকবদলের ইঙ্গিত গ্রহণ করেছেন। তিনি মনে করতেন কবির মেধাটাকে কবিতার শরীরের ভেতরে রাখতে পারলেই ভালো। এ ব্যাপারে তিনি এলিয়টের মুগ্ধ অনুসারী ছিলেন। 

কবি কাদরী জন্মেছেন শহরে, বেড়ে উঠেছেন শহরে, বাস করেছেন পৃথিবীর আরও বড় বড় শহরে। শহরের চিকন গলি, গৃহহীনদের জটলা, বস্তির কলতলে ভিড় নর্দমার ঘ্রাণ, সকাল বিকাল ফায়ার ব্রিগেডের চিৎকার, টেলিফোন তারে সারি সারি কাক এসবই ছিল তার নিত্যদিনের সঙ্গী। তিনি তো কখনো দেখেননি পাখি ডাকা ভোর, উজান থেকে ভেসে আসা ট্যাংরা-পুঁটির ছলকে ওঠা নাচ, কিষানির আধোয়া শান্ত মুখ তিনি কী করে বুঝবেন গ্রামবাংলার ভাষা। আর সে ভাষার সুরটাই বা তার হৃদয়ে পৌঁছাবে কী করে, লিখবেন কী করে এই গ্রামীণ জীবনের কবিতা। আমাদের দেশে শিক্ষিত উচ্চবিত্ত পরিবারের ভাষা অলিখিতভাবে ইংরেজি হয়ে আছে বহুদিন থেকেই। এর জন্য সাধারণ মানুষ কেন দায়ী হতে যাবে। এর দায়ভার রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। তবু অনেক কবি তাদের কবিতায় আঞ্চলিক ভাষা প্রয়োগ করে থাকেন। জানতে চেয়েছিলাম তার প্রতিক্রিয়া—তিনি বলেছিলেন, ‘এই ভাষায় কবিতা লিখে বেশিদূর অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয়।’

কবি তার নিজের মতো করে কবিতা লিখবেন এটাই স্বাভাবিক। তিনি যা ভাবেন তাই লিখবেন। তবু ভালোবেসে পাঠক তাদের মনের কথা, চাওয়া পাওয়া দাবি করে বসেন। কাদরী জীবনের আটত্রিশ বছর বিদেশে কাটিয়েছেন। পৃথিবীর এক্সাইটিং শহরগুলো, যেমন—লন্ডন, বোস্টন ও নিউ ইয়র্কে বসবাস করেছেন। চাকরি করেছেন। এদেশের মানুষের সঙ্গে ঘোরাফেরা করেছেন। সংসার করেছেন। কিন্তু এখানে বসে যা লিখেছেন সেসব লেখায় এর ছিটেফোঁটাও উল্লেখ নেই কোথাও। থাকলে নতুন ধরনের কবিতার সঙ্গে আমরা পরিচিত হতে পারতাম। কবির এই নীরবতা নাকি উদাসীনতা পাঠকদের বিস্মিত করেছে। তারা হতাশ হয়েছে।

শহীদ ভাইয়ের সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে কোনো নির্ধারিত বিষয় থাকত না। দুনিয়ার সব কিছুই ছিল আমাদের আলাপের বিষয়। মাঝে মধ্যেই বলতেন, সুধীন দত্তের মতো তারও পাঁচটা বই থাকলে ভালো হতো। চতুর্থ বই বের হওয়ার পর তিনি তার স্বপ্ন পূরণের আশা করতে শুরু করেন বলেই আমার ধারণা।

কিন্তু নিজের ইচ্ছায় এ ব্যাপারে কোনো উচ্চবাক্য করতেন না। একদিন তো প্রায় বলেই ফেললেন—‘আমি নিজের ওপর কোনো জোর করব না। একটা কথা আছে—যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটতে থাকে ততক্ষণ পর্যন্তই কিন্তু একজন লেখক সত্যিকার অর্থে সৃষ্টিশীল থাকে। যদি আমার অবচেতনে আমার ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটতে থাকে কিংবা যদি আমার বক্তব্য জন্মায়; তবে হয়তো...’ তার বইটি অবশেষে প্রকাশিত হয় গোধূলির গান শিরোনাম নিয়ে কিন্তু তার মৃত্যুর পরে।

ছোট্ট একটা ঘটনা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে আজ এই লেখাটা শেষ করব। তখন অনেকেই বলাবলি করছিল যে, শামসুর রাহমানের কবিতা খুব তরল হয়ে গেছে, তার কবিতা আর হচ্ছে না, তার আর কবিতা না লেখাই ভালো, ইত্যাদি...। সে সময় শহীদ কাদরী নিউ ইয়র্কের এক সাহিত্য অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেই ফেললেন, ‘এখন শামসুর রাহমানের ঘোষণা দিয়ে কবিতা লেখা বন্ধ করে দেওয়া উচিত’। এ কথা জানাজানি হয়ে গেলে শামসুর রাহমান খুব ব্যথিত হন এবং শহীদ কাদরীর সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেন। 

শহীদ ভাই আমার বাসায় থাকার সময় আমি রাহমান ভাইকে ফোন করে শহীদ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিই। উনারা দুজনে প্রায় তিরিশ মিনিটের মতো কথা বলেন। দুই বন্ধুর মিলন ঘটাতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছিল। এ কথা মনে হলে আজও আমি আনন্দ পাই। আশা করি, পরকালে দুই বন্ধু গল্প করে হাসি খুশিতে কাটিয়ে দেবে অনন্ত কাল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত