কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলি ফুটবল কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ফুটবলীয় বিরোধ চরম উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের এক পর্যায়ে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) সভাপতি জিব্রিল রাজৌব ইসরায়েলি ফুটবল গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি বাসিম শেখ সুলেমানের সাথে করমর্দন করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান।
উভয় কর্মকর্তা কংগ্রেসে বক্তব্য দেওয়ার পর ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তাদের মঞ্চে ডাকেন। তবে সৌহার্দ্যের বদলে সেখানে দেখা যায় শীতলতা। রাজৌব এবং সুলেমান একে অপরের থেকে অনেকটা দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়ান। জিব্রিল রাজৌব মাইক্রোফোন থেকে দূরে উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানান এবং করমর্দন না করেই মঞ্চ ত্যাগ করেন।
উভয় কর্মকর্তা মঞ্চ ত্যাগ করার পর ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান এবং একটি আবেগঘন আবেদন করেন। তিনি বলেন, "প্রেসিডেন্ট রাজৌব, ভাইস প্রেসিডেন্ট সুলেমান—চলুন আমরা একসাথে কাজ করি। শিশুদের মনে আশা জাগিয়ে তুলতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যের জন্যই আমাদের একসাথে কাজ করা উচিত।"
ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিফার বৈষম্যবিরোধী নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে। রাজৌবের মূল আপত্তির জায়গাগুলো হলো- ইসরায়েলি লিগে পশ্চিম তীরের বসতিগুলোতে অবস্থিত ক্লাবগুলোকে খেলার অনুমতি দেওয়া।
গত মার্চে ফিফা ইসরায়েলকে এই ইস্যুতে বহিষ্কার বা স্থগিত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ফিলিস্তিন এখন বিষয়টি কোর্ট অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট -এ নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফিফা এর আগে জানিয়েছিল, পশ্চিম তীরের আইনি মর্যাদা অত্যন্ত জটিল এবং অমীমাংসিত
তবে অন্য একটি শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ১ লক্ষ ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করেছে ফিফা। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে: বৈষম্যমূলক এবং বর্ণবাদী আচরণ। আপত্তিকর আচরণ এবং ফেয়ার প্লে-র নীতি লঙ্ঘন
উল্লেখ্য, এই ফিফা কংগ্রেসে এশিয়ান ফুটবল নেতাদের বৈঠকে ইরানের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না, যা ফুটবল বিশ্বের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
