নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হারের পর লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। সিরিজের ট্রফি ভাগাভাগি হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে লিটন স্পষ্ট করে দেন যে, ৭-৮ নম্বর পজিশনে কার্যকরী ব্যাটার না থাকায় দল ভুগছে। এমনকি এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের কাছেই তিনি জানতে চান, দেশের ক্রিকেটে এমন কোনো বিকল্প আছে কি না।
সিরিজ শুরুর আগেই লিটন নিচুর দিকের ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে অবদান প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু আজ শেষ ২৫ রানে ৬ উইকেট হারানোয় অধিনায়কের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। তিনি সরাসরি বলেন, "প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আমি একটা কথা বলেছিলাম যে লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব আছে। আমরা চাই তারা আমাদের ব্যাটিংয়ে ইনপুট দেবে। আজকে সুযোগ ছিল, কিন্তু আবারও ব্যর্থতা।"
লিটনের মতে, বর্তমান ক্রিকেটে শুধু বোলার হয়ে একাদশে টেকা কঠিন। বিশেষ করে স্পিনারদের ব্যাটেও অবদান রাখতে হবে। মেহেদী, রিশাদ বা নাসুমদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "পুরো দুনিয়াতে যারা স্পিনার হিসেবে খেলে, সব দলেই তারা সঙ্গে ব্যাটিংটাও করে। তা না হলে আপনাকে চায়নাম্যান বোলার হতে হবে, যে কিনা বোলিংয়ে মিরাকল কিছু ঘটাতে পারে। অনেক দলে এমন খেলোয়াড় থাকে, যারা শুধু বোলার হিসেবেই খেলে। মেহেদী তো ব্যাটিং পারে, কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমাদের ওই পারফরম্যান্সটা দরকার। একই ব্যাপার রিশাদ–নাসুমের ক্ষেত্রেও।"
সাত নম্বর পজিশনে একজন যথার্থ অলরাউন্ডারের অভাব বোধ করছেন অধিনায়ক। সমস্যার সমাধান না পেয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন, "বাংলাদেশে এ রকম কোনো খেলোয়াড় আপনার চোখে আছে, যে ৭ নম্বরে খেলবে, ৪ ওভার বোলিং করবে আবার ব্যাটিংও করতে পারবে? থাকলে বলবেন।"
রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয় জেনেও লিটন বর্তমান দলের ওপরই ভরসা রাখতে চান। নেটে অনুশীলনের চেয়ে ম্যাচের পরিস্থিতির ব্যাটিংয়ে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। লিটনের প্রত্যাশা, আসন্ন বিশ্বকাপের আগে এই ঘাটতি পূরণ হবে, "রাতারাতি তো সব বদল হবে না, এটা সম্ভবও নয়। কিন্তু ওরাও চেষ্টা করছে। আমি আশা করি যে বিশ্বকাপ আসতে আসতে কিছুটা হলেও উন্নতি হবে।"
ম্যাচে রান পেলে ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে বলে মনে করেন অধিনায়ক। সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার বিষাদ থাকলেও লিটন এখন তাকিয়ে আছেন বিশ্বকাপের আগে ছোট ছোট উন্নতির দিকে।
