দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে একটি অবৈধ ও একক কর্তৃত্বের বৃত্তে আটকে আছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্য শাখা বিএনপি। মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এটিকে তাদের ব্যক্তিগত সম্পদ মনে করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
দীর্ঘদিন ধরে মিশিগান বিএনপির অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের অভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা, দুর্বলতা ও বিভ্রান্তি বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি জরুরি সাংবাদ সম্মেলনে মোটা দাগে কয়েকটি অভিযোগ তুলে এই কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন মিশিগানে বসবাসরত বিক্ষুব্ধ নেতা কর্মীরা।
ওয়ারেন সিটির একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মিশিগান বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপি কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি গণমানুষের দল, একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক সংগঠন। বিএনপির গঠনতন্ত্রের ধারা ১৩ অনুযায়ী, প্রত্যেক কমিটি কাউন্সিলারদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতে হবে। অথচ মিশিগান বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বছরের পর বছর একই পদে বহাল রয়েছেন।
বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ইতোমধ্যেই মিশিগান বিএনপির জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছেন। তিনি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিকে বৈধতা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বিগত স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে মিশিগান বিএনপির ভূমিকা ছিল হতাশাজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ। কমিটির অনেক নেতা বিশেষ স্বার্থপর গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার নামে হেমট্রামিক সিটিতে রাস্তার নামকরণের সিদ্ধান্ত হয়। পরে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। যেসব আওয়ামী সমর্থিত কাউন্সিলারদের বিরোধিতায় বাতিল হয়েছে, তারাই বিএনপির ইফতার পার্টিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন। যা দলের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
স্বৈরাচারী ও একপেশে নেতৃত্বে দলীয় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, গত নির্বাচনে হাজার হাজার প্রবাসী বিএনপি কর্মী ও সমর্থক থাকা সত্ত্বেও, ভোট সংগ্রহ ও প্রেরণে বর্তমান দায়িত্বশীলরা সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এছাড়া মিশিগানে এক জামায়াত নেতা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করলেও মিশিগান বিএনপির কোনো দায়িত্বশীল নেতা এর প্রতিবাদ করেননি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মিশিগান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানের মুরাল স্থাপনসহ যুবলীগের অলিখিত উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিতি। বর্তমান দায়িত্বশীলরা দলের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দিয়ে আওয়ামী পুনর্বাসনে ব্যস্ত রয়েছেন। তিনি অতিদ্রুত এই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনে বিএনপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি মহাসচিবসহ দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মিশিগান বিএনপি সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হাসিদ, মুজিব আহমদ মুনির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বকুল তালুকদার, সাবেক সহ-সভাপতি মামুনুর রেজা শাহেল, নাজমুল হক কামাল, রেদওয়ান আহমদ রাজন, নিজাম উদ্দিন মাষ্টার, জিল্লুর রহমান জিলু, আব্দুল কাদির, মারুফ হোসেন খান, বেলাল আহমদ, এবাদুর রহমান এবাদ, ফরিদ আহমদ ফাহিম, পারভেজ আহমদ, আব্দুল্লাহ আল মান্না, আব্দুস সামাদ মুন্না, আব্দুর রহমান, আবুল কাশেম মুর্শেদ, তাজুল ইসলাম শিপলু, শাহ জুবেদ, মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, আহমেদুর রহমান সিপার, ফরিদ আহমদ ফাহিম, তানজিম আহমদ, মোহাম্মদ আব্দুল কাদির, মোহাম্মদ হাসান আহমদ ও এমাদ উদ্দিনসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা।
