উত্তম চরিত্র নামাজ রোজার সমতুল্য

আপডেট : ০৪ মে ২০২৬, ০৮:২০ এএম

মানুষের মর্যাদা চরিত্রের ওপর নির্ভরশীল। চরিত্রবান ব্যক্তিরা চরিত্রহীন ব্যক্তিদের চেয়ে মর্যাদায় অগ্রগামী ও উত্তম। কোরআনের ঘোষণা অনুযায়ী রাসুল (সা.) ছিলেন মহান চরিত্রের অধিকারী। তিনি বিভিন্ন হাদিসে উত্তম চরিত্রের মর্যাদার কথা উল্লেখ করেছেন। নবীজি উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দানকারী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমি উত্তম চরিত্রকে পূর্ণতা দান করার জন্য নবী হয়ে প্রেরিত হয়েছি। (মুয়াত্তা মালিক)

উত্তম চরিত্র নামাজ-রোজার সমতুল্য। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে এরূপ বলতে শুনেছি, নিশ্চয় মুমিন ব্যক্তি তার উত্তম চরিত্র দ্বারা রোজাদার ও নামাজি ব্যক্তির সমান মর্যাদা লাভ করে থাকে। (আবু দাউদ)

যার চরিত্র সুন্দর তার ইমান পরিপূর্ণ। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, সেই মুমিনের ইমান পরিপূর্ণ, যার চরিত্র সুন্দরতম। তোমাদের মধ্যে উত্তম তারা, যারা তাদের স্ত্রীদের কাছে উত্তম। (তিরমিজি)

উত্তম ব্যক্তি সেই যার চরিত্র সুন্দর। হজরত মাসরুক (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)-এর নিকট গিয়েছিলাম যখন মুয়াবিয়া (রা.) কুফায় এসেছিলেন। হজরত মুয়াবিয়া (রা.) রাসুল (সা.) সম্পর্কে বর্ণনা দিয়ে বললেন, তিনি অশ্লীল ছিলেন না এবং অশ্লীল কথা বলতেন না। হজরত মুআবিয়া (রা.) আরও বলেছেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সুন্দর। (সহিহ মুসলিম)

হজরত আবু দারদা (রা.) হতে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন মুমিনের পাল্লায় সর্বাপেক্ষা ভারী যে জিনিসটি রাখা হবে সেটা হলো উত্তম চরিত্র। আর আল্লাহতায়ালা অশ্লীলভাষী দুশ্চরিত্রকে ঘৃণা করেন। (মিশকাত)

সচ্চরিত্রবান ব্যক্তির অন্যতম গুণ হলো, তিনি অন্যদের প্রতি কোমল, নম্র ও বিনয়ী হবেন। পরোপকারী হবেন। কোমলতাকে মহান আল্লাহ ভালোবাসেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হে আয়েশা! নিশ্চয় আল্লাহতায়ালা কোমল। তিনি কোমলতা পছন্দ করেন। তিনি কোমলতার জন্য এমন কিছু দান করেন কঠোরতার জন্য যা দান করেন না। আর অন্য কোনো কিছুর জন্যও তা দান করেন না। (সহিহ মুসলিম ৬৩৬৫)

কোমলপ্রাণ ব্যক্তির ওপর জাহান্নাম হারাম। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, আমি কি তোমাদের সেই সংবাদ দেব, কে জাহান্নামের জন্য হারাম এবং কার জন্য জাহান্নাম হারাম? যিনি মানুষের নিকটবর্তী এবং সহজ-সরল ও কোমল। (তিরমিজি) আল্লাহ আমাদের উত্তম চরিত্রের অধিকারী বানিয়ে দিন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক, জামিয়াতুল আবরার দারুল উলুম আল-ইসলামিয়া উরশীউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত