পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে শুভেন্দু

আপডেট : ০৫ মে ২০২৬, ০৩:২৭ এএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে এবার আদাজল খেয়ে নেমেছিল রাজ্যটির ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস ও কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দুই দফায় অনুষ্ঠিত ভোটের পর বুথফেরত জরিপগুলো বঙ্গে ‘পদ্ম’ ফোঁটার আভাস আগেই দিয়েছিল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কথার লড়াই চালিয়ে গেলেও, মোদির বিজেপির কাছে ধরাশয়ী হয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যয়। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ২০৭ আসনে জয় নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার রাজ্য সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি। ফলে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে কে হচ্ছেন পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী?

নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, যেকোনো এক বাঙালিই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন। সব দিক থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেনাপতি ছিলেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তার বিজেপিতে যোগ দেওয়া তৃণমূল নেত্রীর জন্য বড় ধাক্কা ছিল। সে সময় নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন শুভেন্দু। সে নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় আসতে ব্যর্থ হয়ে ৭৭টি আসনে আটকে গেলেও, শুভেন্দু বিরোধী দলনেতার পদ পান। এরপর টানা পাঁচ বছর তিনি বিধানসভার ভেতরে মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আগ্রাসী ভূমিকা পালন করেন। বামপন্থিদের স্বর্ণযুগে কংগ্রেসের ছাত্র রাজনীতি দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা শুভেন্দু নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় মমতার ডান হাত ছিলেন এবং সেখানে তৃণমূলের শক্তিকে সংগঠিত করেছিলেন।

এই তালিকায় আছেন আরএসএসের পুরনো কর্মী এবং বাজপেয়ী ঘরানার মধ্যপন্থি মুখ হিসেবে পরিচিত শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্যে বিজেপি যখন প্রান্তিক শক্তি ছিল, তখন থেকেই তিনি দলের সঙ্গে যুক্ত। ২০১৪ সালের উপনির্বাচনে বসিরহাট দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে তিনি ছিলেন রাজ্যের প্রথম নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক। সাবেক সাংবাদিক স্বপন দাশগুপ্ত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির দৈনন্দিন কার্যক্রমে যুক্ত হন। রাজ্য বিজেপির আরেকজন ‘ভদ্রলোক’ মুখ হিসেবে পরিচিত স্বপন দাশগুপ্ত দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বেশ ঘনিষ্ঠ। তবে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি তার একটি দুর্বলতা।

রাজ্য বিজেপির সাবেক সভাপতি দিলীপ ঘোষ ২০১৬ সাল থেকে দলটিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে এবং এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রেখেছেন। ওই সময় বিধানসভায় দলটির মাত্র তিনজন বিধায়ক ছিলেন। তার অধীনেই ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দল ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয়লাভ করে যা এখন পর্যন্ত লোকসভা নির্বাচনে দলটির সেরা সাফল্য। ২০২১ সালের পরাজয় এবং এরপর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর তিনি দল থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়েছিলেন। তবে গত জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর তাকে আবারও মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা হয়। তিনি খড়গপুর সদর আসন থেকে জয়ী হয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত