ব্রাদার্স ইউনিয়নকে একতরফা ম্যাচে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ফেডারেশন কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। মঙ্গলবার কিংস অ্যারেনার কর্দমাক্ত মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ডরিয়েলটনের জোড়ায় তারা ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে জয় পায়। অন্যদিকে মোহাম্মদ জুয়েলের জোড়া গোলে রহমতগঞ্জকে এলিমিনেটরে হারিয়ে মোহামেডান উঠেছে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে।
কিংস অ্যারেনায় ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় কিংস। ডানপ্রান্ত ধরে আক্রমণে ওঠা কিংসের সাদ উদ্দিনের বাড়ানো বল কোনাকুনি শটে জালে জড়ান রাকিব হোসেন। এক গোল হজমের পর ১৩ মিনিটেই ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ব্রাদার্সের গিনির ফরোয়ার্ড কেরফালা কৌয়াতে। মিডফিল্ডার মোলতাজিম আলমের ক্রসে হেড নিলেও পোস্টে রাখতে পারেননি কৌয়াতে।
২১ মিনিটে কিংসের সংঘবদ্ধ আক্রমণ রুখে দেন ব্রাদার্স গোলকিপার ইসহাক আকন্দ। ২৮ মিনিটে ডরিয়েলটন গোমেজের বাইসাইকেল গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এর ২ মিনিট পর আবারও সুযোগ তৈরি করে কিংস। কিন্তু ফ্রি-কিক থেকে নেওয়া দরিয়েলতনের শট পোস্টের ওপর দিয়েই চলে যায়।
এর আগে ২৪ মিনিটে ফ্রি-কিক পায় ব্রাদার্স। কিন্তু দলটির পাকিস্তানি উইঙ্গার শায়েক দোস্তের শট আটকে দেন কিংস গোলকিপার মেহেদী হাসান। ৩৫ মিনিটে ব্রাদার্সের মনির আলমের বাড়ানো বল ডি-বক্সে পেয়ে লক্ষ্যে শট নেন স্যামুয়েল চিগোজি, কিন্তু তার শটে জোর না থাকায় কিংস গোলকিপার মেহেদী সহজেই সেটি আটকে দেন। ৪২ মিনিটে গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি ডরিয়েলটন। খানিকটা সামনে এসেই তার শট রুখে দেন ব্রাদার্স গোলকিপার ইসহাক।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা ভালোই হয়েছিল ব্রাদার্সের। একের পর এক আক্রমণে কিংসকে ব্যস্ত রাখে গোপীবাগের ক্লাবটি। কিন্তু আক্রমণভাগের কেউই পারেননি ঝলক দেখাতে, উল্টো সুযোগ নষ্টের খাতাটাই ভারী করেছেন। একটু দেরিতে হলেও প্রথমার্ধের ছন্দটা ফিরে পায় কিংস। ৭১ মিনিটে ডরিয়েলটন এনে দেন দ্বিতীয় গোল। সাদ উদ্দিনের পাস পেয়ে ঠা-া মাথায় পোস্টে জড়ান এই ব্রাজিলিয়ান। ৩ মিনিট পর আবারও ডরিয়েলটন, নিজের জোড়া গোলের সঙ্গে কিংসকে এনে দেন তৃতীয় সাফল্য। ৮৮ মিনিটে ব্রাদার্সের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন সাব্বির হোসেন। কর্দমাক্ত মাঠে জিততে বেশ কষ্ট হয়েছে স্বাগতিকদের। কিংস অ্যারেনার প্রশাসক মো. ইয়াহিয়া বলেন, ‘এখানে প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। আজও (গতকাল) সকাল ও দুপুর দুবেলা বৃষ্টি হয়েছে। তারপরও কোনোরকমে মাঠ খেলার উপযোগী করে তোলা হয়েছিল।’
এর আগেও ঘরোয়া ট্রেবল জেতার রেকর্ড রয়েছে কিংসের। এবারও দল দারুণ কীর্তি গড়ার সামনে। রাকিবরাও তার জন্য প্রস্তুত, ‘বসুন্ধরা কিংস সবসময় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই ফুটবল খেলে। আমরা এরই মধ্যে একটি ট্রফি জিতেছি। এখন লিগেও আমরা টপে আছি, ফেডারেশন কাপেও ফাইনালে আছি। আমরা যদি ওই দুটি ট্রফি জিততে পারি তাহলে কিন্তু আমাদের ট্রেবল হবে। আমরা একবার ট্রেবল জিতেছি। এবারও ট্রেবল জেতার জন্য ক্লাব কর্মকর্তারা এবং আমরা খেলোয়াড়রা সবাই একতাবদ্ধ।’
কুমিল্লার ভাষা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এলিমিনেটরে রহমতগঞ্জকে ৩-০ গোলে হারিয়ে মোহামেডান এখন শেষ ধাপের সামনে। এই জয়ে সাদাকালোরা উঠে গেছে তৃতীয় কোয়ালিফিকেশন ম্যাচে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাদার্স ইউনিয়ন। সেই ম্যাচ জিতলেই নিশ্চিত হবে ফাইনাল। এই ম্যাচের নায়ক ছিলেন মো. জুয়েল মিয়া, তিনি জোড়া গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধের ২৮ মিনিটে গোল করে এগিয়ে দেন, এরপর ৫৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচ প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন। পরে ৭৬ মিনিটে সৌরভ দেওয়ানের গোল ব্যবধান বাড়িয়ে ৩-০ করেন।
মোহামেডান শেষবার ফাইনালে উঠেছিল ২০২৩ সালে, যেখানে তারা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী লিমিটেডকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল। সেই স্মৃতি এখনও টাটকা, আর এবারও তাদের লক্ষ্য একই, শিরোপা। লিগে খুব একটা ভালো অবস্থানে না থাকলেও ফেডারেশন কাপ এখন মোহামেডানের জন্য মর্যাদা বাঁচানোর শেষ সুযোগ। তাই ১২ মে ব্রাদার্সের বিপক্ষে ম্যাচটা তাদের জন্য কার্যত ‘ফাইনালের আগের ফাইনাল’ হতে যাচ্ছে।
