সহায়তা পাচ্ছেন কারা, বঞ্চিত হচ্ছেন যারা

আপডেট : ০৬ মে ২০২৬, ১২:৩৫ এএম

দেশের কাবাডি অঙ্গনে সম্প্রতি ‘কল্যাণ তহবিল’ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। খেলোয়াড়দের বোনাস থেকে ১০ শতাংশ অর্থ কেটে এই তহবিল গঠন করা হলেও প্রকৃত উপকারভোগী কারা, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, যাদের জন্য এই তহবিল, সেই খেলোয়াড়রাই পাচ্ছেন না প্রয়োজনীয় সহায়তা।

কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এসএম নেওয়াজ সোহাগ জানিয়েছেন, এই তহবিল থেকে খেলোয়াড়, রেফারি ও সংগঠকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। অতীতে যাদের সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তাদের একটি তালিকাও তিনি প্রকাশ করেছেন। তবে সেই তালিকা ঘিরেই শুরু হয়েছে সমালোচনা।

তালিকায় দেখা যায়, ফেডারেশনের দীর্ঘদিনের অফিস সহকারী ইমরান শেখের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী কহিনুর বেগমকে দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে কল্যাণ তহবিল থেকে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রশ্ন, ফেডারেশনের নিজস্ব তহবিল থাকা সত্ত্বেও কেন খেলোয়াড়দের বোনাস থেকে গঠিত কল্যাণ তহবিল থেকে এই অর্থ প্রদান করা হলো।

অন্যদিকে, জাতীয় দলের হয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক আসরে পদকজয়ী খেলোয়াড়রা অভিযোগ করছেন, ইনজুরিতে পড়েও তারা কোনো সহায়তা পাননি। ২০১৪ এশিয়ান গেমস, ২০১৬ ও ২০১৯ সাউথ এশিয়ান গেমসে পদকজয়ী দলের সদস্য টুকটুকি আক্তার গুরুতর লিগামেন্ট ইনজুরিতে আক্রান্ত হন ২০২২ সালে। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে একসময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। এমনকি সামাজিক মাধ্যমে এসে আত্মহত্যার কথাও বলেছিলেন। পরে নিজেকে সামলে নিয়ে বিভিন্ন জেলায় প্রদর্শনী ম্যাচ খেলে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। টুকটুকির অভিযোগ, ফেডারেশনের দ্বারস্থ হয়েও কোনো সহায়তা পাননি তিনি, ‘কল্যাণ তহবিল যদি খেলোয়াড়দের জন্য হয়, তাহলে আমরা কেন পাচ্ছি না? জাতীয় দলের খেলোয়াড় হয়েও কোনো সাহায্য পাইনি।’

একই চিত্র অনূর্ধ্ব-১৮ নারী দলের খেলোয়াড় জুই আক্তারের ক্ষেত্রেও। গত বছর জাতীয় ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর ডান পায়ের দুটি লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায় তার। চিকিৎসার জন্য জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলেও, অর্থের অভাবে গত ১০ মাস ধরে কষ্ট নিয়ে দিন পার করছেন তিনি। অভিযোগ, শুরুতে যোগাযোগ করা গেলেও এখন ফেডারেশনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মিলছে না।

এই পরিস্থিতিতে কাবাডির সাবেক কোচ ও অভিজ্ঞ সংগঠক আবদুল জলিল হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘কল্যাণ তহবিল যদি খেলোয়াড়দের দুঃসময়ে কাজে না লাগে, তাহলে এর প্রয়োজন কী?’ তিনি আরও জানান, তাদের সময়ে রেফারিদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটি অংশ এই তহবিলে জমা হতো। খেলোয়াড়দের বোনাস থেকে অর্থ কাটা হতো না। তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার মতে, এই তহবিল কে পরিচালনা করছেন, কীভাবে অর্থ উত্তোলন ও বিতরণ করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত