কালবৈশাখীর থাবা

লন্ডভন্ড তিন গ্রাম

আপডেট : ০৮ মে ২০২৬, ০৮:০৩ এএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রচ- গতিতে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীতে তিন গ্রামে থাবা বসিয়েছে। এতে ওই তিন গ্রামের বসতবাড়ি গাছপালাসহ বিভিন্ন স্থাপনা লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আধাপাকা ধানক্ষেত, সবজিবাগান ও ছোটবড় আকারের বিভিন্ন জাতের গাছপালা। প্রচ- ঝোড়ো বাতাসে উপড়ে গেছে বহু গাছপালা ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই গ্রামের মানুষ। বিদ্যুৎ না থাকায় সুপেয় পানির কষ্ট দেখা দিয়েছে চরম আকারে। পানির অভাবে গোসল থালাবাটি মাজনসহ টয়লেট ব্যবহার করতে পারছেন না অনেকেই । ফলে  শিশু বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ কষ্টে দিন পার করছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের উত্তর সীমান্তবর্তী গ্রাম হয়দেবপুর, জাহাঙ্গীরপুর ও ধামলই এ তিন গ্রামের ওপর দিয়ে এই কালবৈশাখী বয়ে যায়। এতে ফসলসহ বিভিন্ন গাছপালা ও সবজিবাগান নষ্ট হয়েছে। পাকা, আধাপাকা ঘরবাড়ি ঝড়ের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই তিন গ্রামের বহু বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেকগুলো ছোটবড় আকারের গাছপালা উপড়ে পড়েছে বসতবাড়ির ওপর। গাছপালা ভেঙে লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। বহু গাছ ভেঙে বসতবাড়ির পড়েছে। বহু কাঁঠালগাছ, আমগাছসহ বিভিন্ন বনজগাছও ভেঙে পড়েছে। প্রচ- গতির ঝোড়ো বাতাসে পাকান্ড আধাপাকা ধানক্ষেত নিমিষেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। শাকসবজির ক্ষেত মাটিতে মিশে গেছে। বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শতাধিক পয়েন্ট মেইন লাইন ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে গেছে। ভেঙেছে খুঁটিও।

এক গ্রামের বাসিন্দা আওলাদ আলী বলেন, হঠাৎ করে কালবৈশাখীতে বসতবাড়ির ওপর গাছপালা ভেঙে পড়ে। এতে বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অর্ধশতাধিক গাছপালা ভেঙে পড়েছে তার বাড়ির চারপাশে। তিনি বলেন, সকালে আচমকা ঝোড়ো বাতাস শুরু হওয়ার অল্প সময় পরেই প্রচ- বেগে বাতাস শুরু হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঝড়ে সব তছনছ করে দিয়েছে। বাসিন্দা হালিমা আক্তার বলেন, সকালে অন্ধকার হয়ে ঝোড়ো বাতাস শুরু হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর আর বিদ্যুৎ আসেনি। সবার বাড়িতেই খাবার পানির সংকট শুরু হয়েছে। আশপাশে বেশ কিছু বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে পড়ে আছে। খাওয়ার পানিসহ গোসলখানা পানির সংকটেও সবাই পড়েছে।

ধামলই গ্রামেরর বাসিন্দা বুলবুল মিয়া জানান, ঝোড়ো বাতাসে পাকা ধানক্ষেত চরম আকারে নষ্ট হয়েছে। এ বছর প্রতিদিনই অনিয়মিত বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ধানকাটা, ধান মাড়াই নিয়ে কৃষকদের দিন কাটছে চরম কষ্টে। এ বৃষ্টিঝড়ে আরও ক্ষতি হলো পাকা ধানের। ক্ষেতের জমিতে লুটিয়ে পড়েছে পাকা ধান গাছগুলো। ফলে ধান ও খড় সবই নষ্ট হচ্ছে। 

কাওরাইদ পল্লী বিদুৎ অফিসের এজিএম (কম) আনিছুর রহমান বলেন, কালবৈশাখীতে বহু পয়েন্টে মেইন লাইনের তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে রয়েছে। অনেক গাছপালা মেইন লাইনের ওপর পড়ে আছে, সেগুলো সরিয়ে নিতে অনেক সময়ের প্রয়োজন। তিনি বলেন, লম্বা সময় বিদ্যুৎ ছাড়া এ তিনটি গ্রামের বাসিন্দারা থাকবেন। আমাদের কর্মীরা ঝড়ের পর থেকেই মাঠে কাজ শুরু করেছে। আশা করি, দ্রুত সময়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সচল করতে পারব।

শ্রীপুর উপজেলা জ্যেষ্ঠ কৃষিকর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জানান, কালবৈশাখীতে স্থানীয় কৃষকদের বোরো ধানসহ সবজি আবাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের পর পরই মাঠকর্মীদের পাঠানো হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করতে। তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ ভূঞা বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নিতে সংশ্লিষ্টদের নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত