যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে খাদ্যমূল্য আকাশচুম্বী, দিশেহারা সাধারণ মানুষ

আপডেট : ১১ মে ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে চরম সংকটে পড়েছে ইরানের অর্থনীতি। হু হু করে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। সবশেষ প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যা সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে।

রবিবার (১১ মে) সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশের বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তবতা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ নিয়ে আয়োজিত ওই বৈঠকে তিনি বলেন, ‘দেশ যে সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, জনগণকে তা বাস্তবসম্মতভাবে বুঝতে হবে। জাতীয় ঐক্য ও জনগণের সহযোগিতায় এসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।’

ইরানের পরিসংখ্যান কেন্দ্রের (এসসিআই) তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ এপ্রিল শেষ হওয়া মাসে দেশটিতে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৩.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা খাদ্য খাতে। এসসিআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের প্রথম মাসেই খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১১৫ শতাংশে। অর্থাৎ অনেক নিত্যপণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে রেকর্ড ৩৭৫ শতাংশ এবং রান্নার তেলের দাম বেড়েছে ৩০৮ শতাংশ। এ ছাড়া আমদানিকৃত চালের দাম ২০৯ শতাংশ, দেশি চাল ১৭৩ শতাংশ এবং মুরগির মাংসের দাম ১৯১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এতটাই কমেছে যে, তেহরানের এক বাসিন্দা আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন,  গত মাসেও যে পণ্যটি তিনি কিনতে পারতেন, এখন তা আর সম্ভব হচ্ছে না।

ইরানের মুদ্রা ‘রিয়াল’-এর মান গত দুই সপ্তাহে রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। বর্তমানে খোলা বাজারে ১ মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭.৭ লাখ, যা এক বছর আগেও ছিল মাত্র ৮.৩ লাখ। তেহরানের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সরবরাহ সংকটের দোহাই দিয়ে সবকিছুর দাম বাড়ানো হচ্ছে এবং বাজারে সরকারের কার্যকর কোনো তদারকি নেই। যদিও সরকার ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধিকে ‘বেআইনি’ ঘোষণা করেছে, কিন্তু অর্থনৈতিক সংকটের মুখে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

দেশটির কট্টরপন্থী সংসদ সদস্য এবং রেভোল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিকে শত্রুর ‘অর্থনৈতিক প্রতিশোধ’ হিসেবে বর্ণনা করছে। তবে এই সংকটের মধ্যেই গত ৭২ দিন ধরে ইরানে ইন্টারনেট প্রায় পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে দেশটির ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্টার্টআপ খাত ধ্বংসের মুখে পড়েছে। সব মিলিয়ে যুদ্ধ, অবরোধ এবং অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে ইরানের সাধারণ জনগণ।

সূত্র: আল-জাজিরা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত