যুদ্ধের সময় ‘লুকিয়ে’ আমিরাতে গিয়েছিলেন নেতানিয়াহু

আপডেট : ১৪ মে ২০২৬, ০৮:৪২ এএম

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ‘গোপনে সফর’ করেছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে আরব আমিরাত।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের মধ্যে এই গোপন বৈঠকটি একটি ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওমান সীমান্তবর্তী মরুদ্যান শহর আল-আইন-এ এই গোপন বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় এবং তা কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী ছিল।

তবে এই দাবি কঠোরভাবে অস্বীকার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, নেতানিয়াহু বা ইসরায়েলি কোনো সামরিক প্রতিনিধিদলের সফরের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আবুধাবি জোর দিয়ে বলেছে, ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর কাঠামোর অধীনে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য; কোনো অনানুষ্ঠানিক বা ‘লুকিয়ে’ করা ব্যবস্থার ওপর এই সম্পর্ক নির্ভরশীল নয়।

ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি মঙ্গলবার জানান, ইরানি হামলা মোকাবিলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সহায়তা করতে ইসরায়েল তাদের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’-এর ব্যাটারি পাঠিয়েছে। হাকাবি একে দুই দেশের ‘অসাধারণ সম্পর্কের’ ফল হিসেবে উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে আমিরাত লক্ষ্য করে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোঁড়া হয়। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, তারা এ পর্যন্ত ইরান থেকে আসা ৫৫১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২৬৫টি ড্রোন বা অন্যান্য লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলা করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘নেতানিয়াহু জনসমক্ষে সেটিই প্রকাশ করেছেন যা আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনেক আগেই দেশের নেতাদের জানিয়েছিল।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে এ ধরনের আঁতাত ‘ক্ষমার অযোগ্য’ এবং এর জন্য সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মাসখানেক ধরে একটি যুদ্ধবিরতি চললেও বর্তমানে তা চরম অনিশ্চয়তার মুখে। ইরানের পক্ষ থেকে পেশ করা পাল্টা শর্তাবলীকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এদিকে ইরান এখনো হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে রেখেছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে। বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ গালিবফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যেকোনো আগ্রাসনের শিক্ষা দিতে তাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত