পটুয়াখালীর বাউফলে কর্মরত যমুনা টেলিভিশনের প্রতিনিধিকে মুঠোফোনে হাত-পা ভেঙ্গে দেয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। হুমকির একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভুক্তভোগী সাংবাদিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি গ্রহণ করা হয়েছে।
হুমকি ও কথোপকথনে পুলিশ সদস্য তার নিজের পরিচয় গোপন রাখলেও মুঠোফোন নম্বরের সাহায্যে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্থানীয়রাও পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম সালাউদ্দিন হাওলাদার। তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত একজন কনস্টবল এবং তিনি বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের রাবাই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের ছেলে। অভিযুক্ত সালাউদ্দিন স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, যমুনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি রইসুল ইসলাম ইমন উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের রায়সাহেব এলাকায় 'মুজিব কেল্লা' নামক আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়। ওই প্রকল্পের কাজ করছেন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য সালাউদ্দিনের চাচা ও ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ রিপন হাওলাদার। চাচার ঠিকাদারি কাজের অনিয়ম খোঁজায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি ১০ মে থেকে ১৩ মে পর্যন্ত একাধিকবার ফোন করে হুমকি দিয়ে আসছেন।
মুঠোফোনের কল রেকর্ডে শোনা যায়, দীর্ঘ সময়ের কথোপকথন জুড়ে পুরাটা সময় পুলিশ সদস্য সালাউদ্দিন নানা মুখী হুমকি দেন। একপর্যায়ে হাত পা ভেঙে দেওয়া, অশ্রব্য ভাষায় গালি-গালাজসহ নানা হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। এসময় তার কথার একাধিক রেকর্ড করা হয়। তাকে আরও বলতে শোনা যায়, রড, সিমেন্টসহ যাবতীয় মালামাল তার নিজের টাকায় কেনা। সেগুলো বিক্রি করলে সাংবাদিকদের কি।
এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা। বাউফল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এসএম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, একজন পুলিশ সদস্য যদি এভাবে সাংবাদিককে হুমকি দেয়, তাহলে বিষয়টা সত্যি উদ্বেগজনক। স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা মুখে বললে হবে না, বাস্তবায়ন করতে সরকারের কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। পুলিশ সদস্যে পরিবার চুরি করলে সেটা নিউজ করা যাবে না এরকম যৌক্তিকতা সুস্থ মানুষের হতে পারে না।
পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম আরিফ বলেন, ঘটনার দীর্ঘ সময় পেড়িয়ে গেলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, বিষয়টা দুঃখজনক। দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই পুলিশ সদস্যের অপসারণ দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিটি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী চূড়ান্ত, ঢাকা দক্ষিণে সাদিক কায়েম