এবার জুন মাসে ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। কীটতত্ত্ববিদরাও এই ধারণাকে পোক্ত করেছেন। চলতি বছরের ১২ মে পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৫ জন। মৃত্যুর পর আমাদের টনক নড়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগতই বাড়ছে। তার মানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে যেটুকু কাজ আমাদের করার প্রয়োজন ছিল তা হয়নি। বিশেষ করে এডিস মশা ও লার্ভা নিধনের কাজ করেননি সংশ্লিষ্টরা।
এ বছর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী আগেভাগেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। সবাইকে আরও সচেতন হতে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেছেন, ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য এডিস মশার ঘনত্ব এবার বেশি। এখনই যদি এই মশা নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে। ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে। সেজন্য এখনই বিজ্ঞানভিত্তিক সমন্বিত মশক নিধন কার্যক্রম চালাতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, সরকার সচেতন বলেই আগেভাগেই সরকারপ্রধান প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরাও প্রস্তুতি নিয়েছি। কিন্তু কোনোভাবেই এডিসের লার্ভা নষ্ট করার কাজে সফল হতে পারেনি দুই সিটি করপোরেশনের কোনো পক্ষই। ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক সংসদ সদস্যসহ সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজটি করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু তাতেও যে তারা নড়েচড়ে বসেছেন এমনটা মনে হয় না। কার্যক্রম শুরুর পর দুই সপ্তাহ কেটে যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে উদ্যোগীরা ঝিমিয়ে পড়েছেন। অথচ ঢাকার দুই সিটির তৎপরতা এবং ঢাকার বাইরে এডিস মশা নিধনের কাজ চোখে পড়েনি। অথচ গেল বছর ভোলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ভয়াবহতম।
এবার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েই কাজ শেষ করেনি। ৭৫টি ওয়ার্ডে প্রথমবারের মতো লার্ভার অবস্থা বুঝতে জরিপ চালাচ্ছে। এতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিডিসি সহযোগিতা দিচ্ছে। জরিপের ফলের ওপর ভিত্তি করে এডিস লার্ভার ঘনত্ব দেখে সেখানে জোর তৎপরতা চালানো হবে। এ ছাড়া পরিবেশ উন্নয়ন, বায়ুদূষণ হ্রাস, ডেঙ্গুমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, প্রতিটি আঙিনা ‘পরিচ্ছন্ন আঙিনা’ কর্মসূচির আওতায় অঞ্চলভিত্তিক তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি গঠন ও অফিসিয়াল কাজ দেখে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, এবার আর রক্ষা নেই এডিসের। কিন্তু বাস্তবে আমরা তো ঢাকার কোনো পাড়া-মহল্লায় পরিচ্ছন্ন আঙিনার তোড়জোড় দেখতে পাচ্ছি না।
এটা তো মনে রাখতে হবে যে, মাত্র তিনদিন পানি জমে থাকলেই সেখানে এডিসের জন্ম হতে পারে। এবং সেখান থেকেই আক্রান্ত হতে পারে শিশু থেকে শুরু করে পূর্ণবয়স্ক মানুষ। এমনকি তাদের মৃত্যুও হতে পারে। এ পর্যন্ত যে কয়জনের জীবন গেছে তাদের জন্য শোক প্রকাশ তখনই সার্থক হবে যদি আমরা আর একজনকেও এডিসের শিকার হতে না দিতে পারি। সিটি করপোরেশন প্রধান ভূমিকায় থাকলেও, বিভাগীয় এবং জেলা শহরে জনপ্রতিনিধিদেরও তৎপর হতে হবে। কথায় নয়, আমরা কাজে বিশ্বাসী। এডিস নির্মূলে সবাইকে কাজে ঝাপিয়ে পড়তে হবে এখনই।
