মস্তিষ্কের কারসাজিতে ভূতবিশ্বাস

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫২ এএম

বিজ্ঞান বলছে, ‘ভূত’ বলে কিছু নেই। এটি ভয় ও কল্পনা। অন্ধকারে ছায়াকে ভয়ংকর কিছু মনে করা, চোখ ও মস্তিষ্কের সাধারণ ভুল। অনেক সময়, কম আলো বা বাতাসের শব্দে অদ্ভুত অনুভূতির সৃষ্টি হয়। বিশ্বের অনেক মানুষ এখনো ভূত বিশ্বাস করে। তাদের মতে, মানুষের শরীর থেকে আত্মা চলে গেলে সে প্রাণহীন হয়। তবে কিছু আত্মা শরীর থেকে বের হওয়ার পরও ফিরে আসে। সেই আত্মাই ভূত। তার চালচলন জীবিত মানুষের শরীরের মতো। বিজ্ঞানীরা বহুদিন আগে ভূতের অস্তিত্ব নাকচ করলেও, পৃথিবীর ৩০% মানুষ এখনো ভূতে বিশ্বাস করেন। আসলে আমাদের মস্তিষ্ক প্রায়ই এলোমেলো শব্দ বা ছায়ার মধ্যে পরিচিত কোনো অবয়ব বা নকশা খুঁজে পেতে চায়। মনস্তাত্ত্বিকভাবে যাকে ‘প্যারেইডোলিয়া’ বলা হয়। গবেষণা অনুযায়ী, ভূতের অস্তিত্বের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যে তড়িৎচুম্বকীয় ক্ষেত্র ভূত দেখায়, তার নাম ‘ইনফ্রাসাউন্ড’। আমরা যে কম্পাঙ্কের শব্দ শুনে অভ্যস্ত, এটি তার চেয়ে নিচু কম্পাঙ্কের। কানাডার নিউরোসায়েন্টিস্ট ডা. পারসিঙ্গার এবং তার লরেনটিয়ান ইউনিভার্সিটির টিম ‘গড হেলমেট’ নামের যন্ত্র তৈরি করেছেন। ভূত বিশ্বাসীরা এই হেলমেট পরলে, চৌম্বকীয় সিগন্যাল ছুড়ে তার মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশকে উদ্দীপ্ত করা হয়। তখন তারা অবাস্তব অকল্পনীয় দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তারা ভূত দেখেছেন।  তবে অন্যভাবে। তাদের বাস কেবল সেই মানুষের মনে, যারা ভূত দেখেন বা দেখতে চান। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত