পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি। গতকাল বৃহস্পতিবার এই সম্মেলনের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে আরাগচি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের বিরুদ্ধে ‘বর্বর ও বেআইনি আগ্রাসন’ চালানোর অভিযোগ এনেছেন। জোটটির সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি সম্প্রসারণবাদ ও যুদ্ধবাজির জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে বলেন, তেহরান কখনোই সাম্রাজ্যবাদী চাপে মাথা নোয়াবে না। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এ চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে ব্রিকস জোটের সদস্যদের পাশেও চেয়েছেন আরাগচি। তিনি বলেছেন- ইরানের এ লড়াই কেবল তার একার নয়, এটি পুরো গ্লোবাল সাউথের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। নিজ ভাষণে আরাগচি বলেন, ইরান সবার হয়ে লড়ছে, নতুন এক বিশ্বব্যবস্থার জন্য, যা আমরা সবাই মিলে গড়ে তুলছি। আমাদের সৈন্যরা পশ্চিমা আধিপত্য ও যুক্তরাষ্ট্র যে মনে করে তারা অপরাধ করলেও দায়মুক্তি পেয়ে যাবে তার বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে জীবন দিয়েছে।
এ সময় ইরান গত এক বছরে দুই বার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অবৈধ ও নৃশংস আগ্রাসনের শিকার হয়েছে বলে জানান তিনি। ইরানে হামলার পেছনে ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা যেসব যুক্তি দিয়ে যাচ্ছে তা খারিজ করে দিয়েছেন আরাগচি। তিনি বলেন, বেপরোয়া সামরিক অভিযান যারা চালাচ্ছে তারা একে নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার উপায় মনে করছে। ফলে পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশ্বে। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি কমিশন এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের মূল্যায়নের বিপরীতে গিয়ে এ হামলাগুলো মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। আবেগি গলায় তিনি মিনাবে স্কুলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত শিশুদের মায়েদের কথা স্মরণ করে বলেন, ওই মায়েরা তাদের সন্তান হারানোর শোকেও নত হয়নি।
পাশাপাশি স্মরণ করেন স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক ও সৈন্যদের কথাও। ইরান কি তার আদর্শ থেকে সরে এসেছে বা সাম্রাজ্যবাদের ইচ্ছার কাছে মাথা নত করেছে এ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে আরাগচি বলেন, স্পষ্ট উত্তর হচ্ছে আমরা করিনি, কখনো করবোও না। তেহরানের প্রতিরোধের আদর্শিক ভিত্তির কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, পড়ন্ত সাম্রাজ্যবাদী শক্তি চায় ঘড়ির কাঁটা উল্টে দিতে, সে কারণেই মরিয়া হয়ে তারা আগ্রাসী আঁচড় দিচ্ছে। তিনি ব্রিকসকে তুলনামূলকভাবে বেশি ‘ন্যায়সংগত বিশ্বব্যবস্থার’ প্রতিনিধি আখ্যা দিলেও জোটটির অবস্থান ‘এখনো নড়বড়ে’ বলে সতর্কও করেন।
ব্রিকসের সদস্যরা যেন ‘ইরানে বেআইনি আগ্রাসন চালানোসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যেভাবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করে যাচ্ছে তার কড়া নিন্দা’ জানায় ও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেয় তারও আহ্বান জানিয়েছেন আরাগচি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার দেশ কূটনীতিকে প্রাধান্য দিতেও প্রস্তুত। তার ভাষ্য- ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো কিছুরই কোনো ধরনের সামরিক সমাধান নেই।
