গোপন বাগানে ট্রাম্পের কয়েক ঘণ্টা

আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ১২:৫৪ এএম

বাণিজ্য, তাইওয়ান ও ইরান ইস্যুতে আলোচনার পর গতকাল শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং বেইজিংয়ের অত্যন্ত গোপনীয় ও কঠোর নিরাপত্তায় ঘেরা ‘জংনানহাই’ চত্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কয়েকশ বছরের পুরনো গাছগুলো ঘুরিয়ে দেখান। তাদের শীর্ষ সম্মেলনের শেষ কয়েক ঘণ্টায় তারা সেখানে কিছুক্ষণ পায়চারি করেন। দুই নেতাকে এ সময় বেশ হাসিখুশি ও কিছুটা হালকা মেজাজে দেখা যায়।

জংনানহাই লিডারশিড কম্পাউন্ডে শি জিন পিংসহ চীনের শীর্ষ নেতারা বসবাস করেন ও সেখান থেকে কাজকর্ম পরিচালনা করেন। চীনের হোয়াইট হাউজ হিসেবে পরিচিত এই কম্পাউন্ডটি তিয়েনআনমেন স্কয়ারের ২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।

১৪ শতকে তৈরি বাগানে হেঁটে হেঁটে ঘোরার সময় শি বলেন, ‘এ জায়গাটি একসময় সম্রাটের উদ্যানের অংশ ছিল। এ প্রাঙ্গণের প্রচুর ইতিহাস রয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, তাদের হাঁটার সময় যে গাছটি তারা দেখেছিলেন, সেটির বয়স ৪৯০ বছর। ট্রাম্প উত্তরে বলেন, ‘এগুলো কি এত দিন বাঁচে?’ শি যোগ করেন, ‘অন্যান্য জায়গায় এক হাজার বছরের পুরনো গাছও রয়েছে।’

হাঁটার সময় এক পর্যায়ে বাগানে দেখা চীনা গোলাপের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘এগুলোই কারও দেখা সবচেয়ে সুন্দর গোলাপ।’ এ সময় শি জানান, তারা যে চীনা গোলাপ দেখেছেন, তার বীজ তিনি ট্রাম্পকে উপহার হিসেবে পাঠাবেন। এতে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটি খুব পছন্দ করি, এটি দারুণ।’ পরে চায়ের ঘরের দিকে যাওয়ার সময়ও ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, শি তাকে হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনের জন্য গোলাপ দেবেন।

জংনানহাই প্রাঙ্গণে ট্রাম্প ও শির হাঁটার সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে তাদের কথোপকথন শোনা গেছে।

ট্রাম্প ও শি তাদের দোভাষীদের সঙ্গে বাগানে দাঁড়িয়ে থাকার সময় শির কাছে ট্রাম্প জানতে চান, ‘আমি কি প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞাসা করতে পারি অন্য দেশ থেকে আসা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের, যেমন প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীদের, তিনি কি এখানে নিয়ে আসেন?’

শি জবাব দেন, ‘খুবই কম। আমরা সাধারণত এখানে কূটনৈতিক আয়োজন করি না। যদিও এ রকম কিছু আয়োজন শুরু হয়েছে, এরপরও এটি এখনো অত্যন্ত বিরল।’ তিনি আরও বলেন, ‘উদাহরণ হিসেবে, পুতিন।’ পূর্ববর্তী সফরগুলোর সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট একাধিকবার জংনানহাই পরিদর্শন করেছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো। আমার এটা পছন্দ হয়েছে।’

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে বেইজিংয়ের সামরিক কুচকাওয়াজ দেখতে যাওয়ার সময় মাইক্রোফোনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের

কথোপকথন ধরা পড়েছিল। সেখানে তাদের অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং মানুষের ১৫০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে শোনা গিয়েছিল। বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের ওপর নজর ছিল পুরো বিশে^র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যকার ‘অনেক ভিন্ন ভিন্ন সমস্যার’ সমাধান করা হয়েছে। যদিও দুই পরাশক্তির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সরাসরি প্রভাবিত করেএমন মূল ও সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত