সিরিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনীর তল্লাশি অভিযান

আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

এবার সিরিয়ায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। জানা গেছে সিরিয়ায় ই দক্ষিণাঞ্চলীয় কুনেইত্রা প্রদেশের সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সাঁজোয়া যান ও ট্যাংক আকস্মিক অনুপ্রবেশ করে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে।

অধিকৃত গোলান মালভূমি সংলগ্ন সিরিয়ার এই কৌশলগত সীমান্ত অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর এমন গতিবিধি স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই ঘটনাকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে।

সিরিয়ার সরকারি সূত্র এবং স্থানীয় গণমাধ্যম থেকে জানা যায়, এই অনুপ্রবেশের ঘটনাটি ঘটেছে মূলত দুটি পৃথক এলাকায়। প্রথম ঘটনায়, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর চারটি বিশেষ সামরিক যান কুনেইত্রার দক্ষিণাঞ্চলীয় গ্রামীণ এলাকার সাইদা আল-হানউত গ্রামে সরাসরি প্রবেশ করে। 

গ্রামে প্রবেশের পরপরই ইসরায়েলি সেনাসদস্যরা বেশ কয়েকটি আবাসিক বাড়ি ঘেরাও করে এবং ভেতরে ঢুকে তল্লাশি অভিযান চালায়। তবে আকস্মিক এই অভিযানে কোনো নাগরিককে গ্রেপ্তা বা আটক করার খবর পাওয়া যায়নি। কী উদ্দেশ্যে এই তল্লাশি চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

এর কিছু সময় পরই কাছাকাছি আরেকটি এলাকায় দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে। কুনেইত্রার দক্ষিণাঞ্চলের আল-মুয়াল্লাকা গ্রামের উপকণ্ঠে অবস্থিত তেল আল-দ্রেইয়াত এলাকার দিকে ইসরায়েলের তিনটি শক্তিশালী ট্যাংক অগ্রসর হতে দেখা যায়। ট্যাংকগুলো ওই এলাকার সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে বেশ কিছু সময় অবস্থান নেয়। তবে কোনো ধরনের বড় সংঘাত বা গোলাগুলির ঘটনা ছাড়াই পরবর্তী সময়ে ট্যাংকগুলো পুনরায় নিজেদের পূর্বের অবস্থানে পিছু হটে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, গোলান মালভূমি সংলগ্ন এই সীমান্ত অঞ্চলটি দীর্ঘকাল ধরেই অত্যন্ত সংবেদনশীল। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের সামরিক মুভমেন্ট আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ইসরায়েলি বাহিনীর এই আকস্মিক প্রবেশ কোনো নিয়মিত নজরদারি নাকি নির্দিষ্ট কোনো গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযান, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত