বাউফলে পাশাপাশি শায়িত একই পরিবারের পাঁচজন

আপডেট : ১৭ মে ২০২৬, ০২:২২ এএম

পটুয়াখালীর বাউফলে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে।

গতকাল শনিবার সকালে যখন মা সায়মা বেগম, একমাত্র ছেলে মুন্না, দুই মেয়ে মুন্নী ও কথার কফিনে মোড়ানো লাশ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার উত্তর কনকদিয়া গ্রামের কাড়াল বাড়ির উঠানে এসে পৌঁছায়, তখন পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খুলে যখন একে একে চারটি সাদা কফিন বের করা হয়, তখন স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। উপস্থিত শত শত মানুষ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। শেষবারের মতো একনজর দেখতে আসা মানুষের ভিড়ে চারপাশ থমকে যায়। এরপর সকাল ১০টার দিকে উত্তর কনকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মা ও তিন সন্তানের জানাজায় অংশ নেন স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসংখ্য মানুষ। জানাজা শেষে গত সোমবার মারা যাওয়া গৃহকর্তা কালাম মিয়ার কবরের পাশেই নতুন বাড়ির পুকুরপাড়ে পরিবারের বাকি চার সদস্যকে শায়িত করা হয়। একই সারিতে পাশাপাশি পাঁচটি তাজা কবরের দিকে তাকিয়ে নির্বাক দাঁড়িয়েছিলেন শত শত মানুষ।

গত রবিবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার গিরিধারা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে ঘরে জমা হওয়া গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ওই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হন। গুরুতর অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার কালাম মিয়া মারা যান। পরে তাকে গ্রামের বাড়িতে এনে দাফন করা হয়। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে তার তিন সন্তান মুন্না, কথা ও মুন্নী মারা যায়। সর্বশেষ গত শুক্রবার সকালে মারা যান কালাম মিয়ার স্ত্রী সায়মা।

কালাম মিয়ার চাচাতো ভাই রফিক মিয়া জানান, ‘পরিবারের পাঁচজনকে হারিয়ে আমরা সবাই শোকে স্তব্ধ। গ্রামের মানুষ মিলে দাফনের সব ব্যবস্থা করেছে।’

কালাম মিয়ার বোন রাসেদা বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, “বাড়িতে সব ভাই মিলে একটা নতুন বিল্ডিংয়ের কাজ ধরছিল। রোজার ঈদের আগে ভাইয়ের সঙ্গে শেষ দেখা, তখন ভাই বলছিল, ‘কোরবানির ঈদে বাড়ি আইসা ঘরের কাজ শেষ করমু, বাকি জীবনটা স্ত্রী-সন্তান নিয়া দেশের বাড়িতেই থাকমু।’ ভাই আমার বাড়ি ফিরল, কিন্তু লাশ হয়া।”

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন জানান, ‘নিহত পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাউফল উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

সোনারগাঁওয়ে গ্যাস লিকেজ বিস্ফোরণে দগ্ধ আরেক যুবকের মৃত্যু : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে গ্যাস লিকেজ বিস্ফোরণে ১২ কর্মী দগ্ধ হওয়ার ঘটনায়  আমির (২৫) নামে আরও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। এ নিয়ে ওই দুর্ঘটনায় দুজনের মুত্যু হলো।

গত বুধবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনাঘাটে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে বিস্ফোরণের ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শংকর (২৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়। তার শরীরের ৪৬ শতাংশ দগ্ধ ছিল। ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধের পরিমাণ কম থাকায় ছয়জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এখনো চারজন চিকিৎসাধীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত