যাত্রা শুরু বগুড়া সিটি করপোরেশনের

আপডেট : ১৭ মে ২০২৬, ০২:২৩ এএম

দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেল বগুড়া। প্রায় দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী বগুড়া পৌরসভা এখন থেকে ‘বগুড়া সিটি করপোরেশন’ নামে পরিচালিত হবে। নতুন সিটির প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

নতুন এ সিটিতে মোট ২১টি ওয়ার্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন নতুন মহানগরবাসীর প্রত্যাশা, আর কোনো বঞ্চনা নয়, এবার উন্নয়ন দেখতে চান তারা। গত বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় সরকার বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। পরে সেটি সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। এর মধ্য দিয়ে বগুড়াকে আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে সরকারের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হলো।

ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ এবং স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) প্রতিষ্ঠা বিধিমালা, ২০১০ অনুযায়ী বিদ্যমান বগুড়া পৌরসভা ও আশপাশের সম্প্রসারিত এলাকা নিয়ে নতুন সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মতামত আহ্বান করে এবং বগুড়া জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

নতুন সিটি করপোরেশনের সীমানা নির্ধারণে বগুড়া সদর ও শাজাহানপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উত্তরে নিশিন্দারা, রাজাপুরের অংশ ও শাখারিয়া ইউনিয়ন, দক্ষিণে আশেকপুর, মাদলা ও মাঝিড়া ইউনিয়ন, পূর্বে সাবগ্রাম, রাজাপুরের অংশ ও মাদলা ইউনিয়ন এবং পশ্চিমে ফাঁপোড় ও এরুলিয়া ইউনিয়ন নতুন সিটির আওতায় এসেছে।

এর আগে গত ৭ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় বগুড়া সিটি করপোরেশন গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সরকার শিগগিরই একজন প্রশাসক নিয়োগ দেবে। প্রশাসক হিসেবে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার অথবা অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে একজন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, বগুড়া শহরের সুপেয় পানির চাহিদা পূরণে ওয়াসা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আদলে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বউক)’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সিটি করপোরেশন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় ভবিষ্যতে নিজস্ব পরিকল্পনায় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এজন্য প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

নতুন এ সিটি করপোরেশন গঠনের ফলে বগুড়ায় আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহ ও নাগরিক সেবার মান আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সমন্বয়কারী কালাম আজাদ বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর বগুড়ার কোনো উন্নয়ন হয়নি। বগুড়া পৌরসভার সিটি করপোরেশন হওয়ার যোগ্যতা থাকলেও হাসিনা সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় সিটি করপোরেশন করেনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় এসে বগুড়া সফরে আসেন এবং বগুড়া পৌরসভার ১৫০ বছরের ইতিহাস বদলে দিয়ে সিটি করপোরেশন ঘোষণা করেছেন। এবার বগুড়ার উন্নয়ন হবে। ধারাবাহিকভাবে সারা দেশের সঙ্গে এগিয়ে যাব আমরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত