চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বাগান বাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি, কাঞ্চননগর, খিরাম, নানুপুর, ধর্মপুর, সুয়াবিল, ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট পৌরসভাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই শতাধিক করাতকল পরিচালিত হচ্ছে। সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গড়ে ওঠা অধিকাংশ করাতকল প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই প্রকাশ্যে কাঠ চিরাই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব করাতকল অবাধে চললেও কার্যকর নজরদারি কিংবা দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেই। এতে বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে কাঠ সংগ্রহ বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বনসম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ করাতকলের নেই বৈধ লাইসেনস বা পরিবেশগত অনুমোদন। অনেক ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেনস ছাড়াই ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তদারকি, জবাবদিহি ও মাঠপর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু বিট কর্মকর্তার মাসোয়ারার বিনিময়ে অবৈধ করাতকলগুলো নির্বিঘ্নে পরিচালিত হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কায়সার হামিদের সঙ্গে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য মেলেনি।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম উত্তর পরিবেশ অধিদপ্তরের ফটিকছড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস বলেন, ‘ফটিকছড়ি থেকে এখন পর্যন্ত কোনো করাতকল পরিবেশ ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেনি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ফটিকছড়িতে অবৈধ করাতকলের বিস্তার শুধু বন আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়; এটি বনসম্পদ রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সংকেত। তাদের দাবি, অবিলম্বে সমন্বিত অভিযান, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অবৈধ করাতকল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
