মেহেরপুরে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। হাটগুলোতে এবার দেশি গরুর আমদানি বেশি হওয়ায় এখন থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। খামারিরা দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করে কালাপাহাড়, ধলাপাহাড়, সম্রাট, ওস্তাদ, রাজাবাবু, হিমালয়সহ প্রায় ২ লাখ গরু প্রস্তুত করেছে। ২৫ লাখ থেকে ৭০ হাজার টাকায় মিলছে কোরবানির জন্য বিশাল আকৃতির এই সমস্ত গরু। প্রতিদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা মেহেরপুরের পশুহাট থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন কোরবানির পশু।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- জেলার আমঝুপি, শোলমারী, শালিকা, সাহারবাটি, তেঁতুলবাড়িয়া, মহাজনপুর, আমদাহ, আনন্দবাস, বামুন্দী, মোহাম্মদপুর এমন শতাধিক গ্রাম রয়েছে যেখানে লক্ষাধিক গরু ঈদে বিক্রিযোগ্য অবস্থায় প্রস্তুত আছে। খামারিরা পশুর যত্নআত্তি এবং হাটে প্রস্তুত করার কাজে ব্যস্ত। জেলা পশুসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে- এবার কোরবানির ঈদের জন্য জেলার ৮৫০টি বাণিজ্যিক খামারসহ ২৮ হাজার পারিবারিক খামারে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৮৯টি গরু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ষাঁড় গরু ৫৬ হাজার ৩৪৯টি, বলদ ৭০ হাজার ৮৪৪টি, গাভী ৩৫ হাজার ৫০৯টি, মহিষ ৩৪ হাজার ৮২টি রয়েছে। এর বাইরে ব্ল্যাকবেঙ্গল জাতের ১ লাখ ১৫ হাজার ৬৬৫টি ছাগল এবং ২ হাজার ৭২০টি ভেড়া রয়েছে। স্থানীয়ভাবে ৯০ হাজার ২৩৪টি পশুর চাহিদা রয়েছে। বছরজুড়ে দেশীয় গরুর দাম বেশি থাকায় এবার গরু বিক্রি করে অধিক লাভবানের আশা খামারিদের। কিন্তু পশুখাদ্যের চড়া মূল্যসহ ব্যবসার মন্দাবস্থার কারণে এবারও গরু বিক্রিতে লোকসান হলে ব্যাংকঋণের টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হবে না এবং পুঁজি হারিয়ে পথে বসতে হবে বলছেন খামারিরা। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মেহেরপুরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে কালাপাহাড়, ধলাপাহাড়, সম্রাট, ওস্তাদ, রাজাবাবু, হিমালয়সহ বিশাল আকৃতির একাধিক ষাঁড়। প্রায় ১ হাজার ৪শ কেজি ওজনের এ সমস্ত গরু দেখতে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।
গাংনী উপজেলার মটমুড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী জহুরুল ইসলামের বাড়িতে থাকা পাকিস্তানি শাহিওয়াল জাতের ষাঁড়টি দেখতে আশপাশের জেলা থেকেও মানুষ ছুটে যাচ্ছেন সেখানে। জহুরুল ইসলামের স্ত্রী হোসনেয়ারা খাতুন বলেন- সন্তানের মতো আদরযত্ন করে মানুষ করেছি খামারের প্রতিটি হিমালয় নামের গরু। তাই গরুগুলো বিক্রি হয়ে যাবে ভাবলেই খারাপ লাগছে। আমঝুপি গ্রামের হোসনেয়ারা খাতুন জানান, আড়াই বছর ধরে পরিবারের সদস্যের মতো করেই ‘কালু’কে বড় করা হয়েছে। কোনো ধরনের ইনজেকশন বা কৃত্রিম পদ্ধতি ছাড়াই ঘাস, তুস, চালের গুঁড়া, খৈল ও গুড় খাইয়ে লালনপালন করেছি। গরুটির পেছনে প্রতিদিন ব্যয় প্রায় ৭শ থেকে ৮শ টাকা। গরুটির দৈর্ঘ্য সাড়ে ৭ ফুট এবং উচ্চতা সাড়ে ৬ ফুট। অনেক ক্রেতা এসে গরুটি দেখে গেলেও এখনো কাক্সিক্ষত দাম মেলেনি। বামুন্দী গ্রামের আতিয়ার রহমান বলেন, তার স্বামী বিদেশে থাকলেও বাড়িতে বর্তমানে ৭টি গরু রয়েছে। ধলাপাহাড় নামের প্রতিটি গরু আকর্ষণীয়। খামারিরা জানান বিশাল আকৃতির এই সমস্ত গরু ১৫ থেকে ২২ লাখ টাকা মূল্য পেলে লোকসান হবে না।
মেহেরপুর জেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) ডা. তোফাজ্জেল হোসেন বলেন- মেহেরপুরের গরু এবং ব্ল্যাক বেঙ্গল হাতের ছাগলের সুখ্যাতি আছে দেশজুড়ে। তাই প্রাণিসম্পদ বিভাগ পশু লালন-পালনে প্রতিটি খামারিকে পরামর্শসহ অন্যান্য সাপোর্ট দিয়ে থাকে। কোরবানি ঈদ সামনে রেখে জেলায় প্রায় ২ লাখ গরু এবং প্রায় ২ লাখ ছাগল বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। পশুহাটকে নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত করতে তারা প্রতিটি হাটে নজরদারি বৃদ্ধিসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে মিটিং করছেন। এবার জেলা থেকে প্রায় দুইশ কোটি টাকার পশু বেচাকেনা হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানান তিনি।
