টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০ বছরের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে ৪৩৬ রান তাড়া করে জেতার কোনো নজির নেই। ২০০৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ৪১৮ রানই এখন পর্যন্ত বিশ্ব রেকর্ড। এমন এক প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য সামনে রেখেও পুরোপুরি ‘নির্ভার’ হতে পারছে না বাংলাদেশ শিবির। অন্যদিকে, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও হাল ছাড়তে নারাজ পাকিস্তান।
বাংলাদেশ দল দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান তুললেও স্কোরবোর্ডে আরও কিছু রান যোগ না হওয়ার কিছুটা আক্ষেপ ঝরেছে স্পিনার তাইজুল ইসলামের কণ্ঠে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "আমরা যদি স্কোরবোর্ডে আরও ২০-৩০-৪০ রান যোগ করতে পারতাম, হয়তো দলের জন্য ভালো হতো। কারণ উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। তবে এখানে হতাশার কিছু নেই। সবসময় তো আর চাওয়া অনুযায়ী শতভাগ হবে না।"
রান বাড়ানোর এই তাড়না যে দলের সবার মধ্যেই ছিল, তার প্রমাণ মেলে মুশফিকুর রহিমের আউট হওয়ার পর। ১৩৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন মুশফিক আউট হন, তখন বাউন্ডারি লাইন পার করার সময় হতাশায় হেলমেট ছুড়ে মারেন তিনি। সেঞ্চুরি করলেও দলকে আরও কিছুটা নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে যেতে না পারার সেই আক্ষেপটাই যেন ফুটে উঠেছিল মিস্টার ডিপেন্ডেবলের আচরণে।
উইকেট এখনো ব্যাটসম্যানদের পক্ষে থাকায় চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশি বোলারদের বাড়তি শৃঙ্খলা মেনে বল করার তাগিদ দিয়েছেন তাইজুল। তবে অতীতে একাই স্পিন আক্রমণ টানতে হলেও এখন পেসারদের উন্নতিতে স্বস্তিতে আছেন তিনি, "আগে হয়তো ৫ উইকেট পেতে আমাকে অনেক ওভার বল করতে হতো। এখন ৫ জন বোলারই ভালো করছে। দশের লাঠি একের বোঝা—সবাই ফর্মে থাকায় কাজটা সহজ হয়ে গেছে।"
অন্যদিকে, ইতিহাসের কঠিনতম লক্ষ্যের সামনে দাঁড়িয়েও ড্র নয়, বরং জয়ের কথাই ভাবছে পাকিস্তান। যদিও আগামী দুই দিন সিলেটে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, তবে উমর গুলের নজর কেবল ইতিবাচক ক্রিকেটের দিকে, 'এখনো দুই দিন আছে। আমরা মানসিকভাবে তৈরি যে যথেষ্ট সময় হাতে আছে। আমরা ড্র করতে চাইছি না, রান তাড়ার জন্যই প্রস্তুত আছি। ৪৩৭ রান তাড়া করতে আপনাকে সাহসী হতে হবে। ক্রিকেটে সবকিছুই সম্ভব, দুই দলেরই জেতার সম্ভাবনা আছে।"
পাহাড়সম লক্ষ্য সামনে থাকলেও চতুর্থ দিনের সকালটা দুই দলের জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ