কর আদায় না বাড়ালে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে আগামী অর্থবছরে সরকারের ওপর ঋণের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণায় বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে কর আদায় না বাড়িয়ে ব্যয় বাড়লে অর্থনৈতিক চাপ আরও বেড়ে যাবে।
রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে গতকাল সোমবার এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের আয়োজনে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ : রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান এসব বিষয় তুলে ধরেন।
সংলাপে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম, বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহ্মুদা হাবীবা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানসহ ব্যবসায়ী নেতারা।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার যে রাজস্ব আহরণের টার্গেট নেওয়া হচ্ছে, তাতে ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধ অর্জন করতে হবে। এটি বর্তমান কাঠামোতে সম্ভব কি না, তা ভাবতে হবে। বাংলাদেশে ২০১১ সালে রাজস্ব আদায়ে সর্বোচ্চ ২৭ শতাংশের একটু বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। এরপর আর কখনো রাজস্ব আদায়ে এতটা প্রবৃদ্ধি হয়নি।
তিনি বলেন, কর আদায় না বাড়িয়ে পরিচালন ব্যয় বাড়ালে সরকারের ওপর চাপ বাড়বে। উন্নয়ন বাজেট বাড়াতে হলে অবশ্যই সরকারের কর আদায়ও বাড়াতে হবে। কর আদায় না বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে, সেটিও সরকারের ওপর চাপ বাড়াবে।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটে জনগণ কতটা দিচ্ছে এবং কতটা ফেরত পাচ্ছে, তার মূল্যায়ন হওয়া উচিত। এখানে জনগণের থেকে নিয়ে কতটা দুর্নীতি হচ্ছে তার পরিমাপ হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, আগামী বাজেটে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণের সুদ হিসেবে ব্যয় করতে হবে। এ রকম ঋণনির্ভরতা কমিয়ে আনতে হবে।
বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, খাতভিত্তিক বরাদ্দ দুই-এক বছর না বাড়িয়ে গুণমানে জোর দেওয়া উচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খাতভিত্তিক বরাদ্দ বাড়লেও লক্ষ্য ও বাস্তবায়নের মধ্যে বড় তফাত দেখা গেছে। মাঝখানে বড় অঙ্কের দুর্নীতি হয়। প্রকৃতপক্ষে বরাদ্দ না বাড়িয়ে গুণমান বজায় রেখে ব্যয় হলে আমাদের বাজেট ঘাটতিও কমে আসবে।
কারওয়ান বাজারে দিনে ২-৩ কোটি টাকার চাঁদাবাজি : অনুষ্ঠানে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রতিদিন দুই থেকে তিন কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয় বলে দাবি করেন বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান। তিনি বলেন, এই বাজারের কয়েকটি পাইকারি মুরগির দোকান থেকেই মাসে প্রায় ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। তিনি বলেন, ‘এই চাঁদাবাজি যারা করে, ওপরে তারা রাজনৈতিক নেতা, ভেতরে চাঁদাবাজ। এটা আগের সরকারের লোকরা করত, এখন কারা করে তা আর এখানে বলছি না।’
জামায়াতের এমপির এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহ্মুদা হাবীবা একে ‘ঢালাও অভিযোগ’ অভিহিত করে তাকে সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
