‘অভিনয়ে আর ফেরা হবে না। তবে কাজের প্রস্তাব যে আসে না, তা কিন্তু না। অনেক প্রস্তাবই আসে। কেউ কেউ বলেন, আপনাকে কেন্দ্র করে গল্প লেখা হবে, তবুও অভিনয় করেন। মন টানে না। দেখুন, আমার জীবন নিয়ে আমি স্যাটিসফায়েড। এই জীবনে ভীষণ খুশি আমি। ভীষণভাবে সুখী।’
এভাবেই বললেন মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্রের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শান্তা ইসলাম। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী আরণ্যক নাট্যদলের ‘ময়ুর সিংহাসন’, ‘জয়জয়ন্তী’, ‘আগুনমুখা’ নাটকে অভিনয় করে মঞ্চেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
টানা ২১ বছর ধরে অভিনয় থেকে দূরে আছেন শান্তা ইসলাম। অভিনয়ে না ফেরার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার। তিনি বলেন, সর্বশেষ ২১ বছর আগে একটি নাটকে অভিনয় করি। ওই নাটকের নামটাও এ মুহূর্তে মনে পড়ছে না। সে সময় আমার একমাত্র ছেলে সৌমিক ক্লাস ফাইভে পড়ে। আমি ঢাকা থেকে চলে গেছি সিলেটে মায়ের কাছে। স্বামীর সঙ্গে দূরত্ব হয়েছে। পারিবারিকভাবে আমরা দুজনে বিচ্ছিন্ন। হঠাৎ একদিন সৌমিক বলল, মা আমি কী ক্লাস সিক্সে ভর্তি হব না? আমাকে কথাটা নাড়া দেয়। আমি বারবার ভাবতে শুরু করি। মাকে বলি, আমাকে বিমানের টিকিট কেটে দাও। আমি ঢাকায় যাব, সৌমিককে স্কুলে ভর্তি করাব।’
সে সময়ের স্মৃতি বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মা টিকিট কেটে দেওয়ার পর সৌমিককে নিয়ে ঢাকায় আসি। উড়োজাহাজে বসে সেদিন চোখের পানি পড়ছিল। খুব কাঁদছিলাম। কিন্তু, ঢাকায় এসে থাকব কোথায়? সিলেট থেকেই আমার ছেলের ক্লাসমেটের বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা একটি বাসার সন্ধান দেন। এরপর চলে আসি। জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয়।’
এরপর বলেন, ‘ছেলেকে ভর্তি করালাম। সে সময় ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক ব্যস্ত ছিলাম। শুটিং শেষ করতে করতে রাত হয়ে যেত প্রায়ই। ভাবলাম, নিয়মিত এত রাত করে বাসায় ফিরলে সন্তানের কী হবে? তাকে সময় দেবে কে? সিদ্ধান্ত নিলাম অভিনয় করব না। আগে সন্তান মানুষ হোক। ক্যারিয়ারের চেয়ে জীবনের অংশ আমার সন্তানের মানুষ হওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিলাম। যে নাটকগুলোর কাজ বাকি ছিল দ্রুত শুটিং শেষ করে দিই। এরপর অভিনয় থেকে সরে আসি। চিরচেনা লাইট, অ্যাকশন, ক্যামেরা শব্দগুলো থেকে সরে যাই।’
হাসপাতালে ডিজে সনিকা
সিরাজদীখানে দুই স্কুলের মাঠ দখলের চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন
সাভার দিনব্যাপী চাকরি মেলা
কোটেশনের নামে পুকুর চুরি, নোংরা বিছানায় রোগীর চিকিৎসা