জালিয়াতির মাধ্যমে কার্পেট আমদানি

বড় অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি

আপডেট : ২০ মে ২০২৬, ০১:৫৭ এএম

চীন, তুরস্ক, ভারত, বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কার্পেট আমদানিতে ভয়াবহ জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। তারা দামি কার্পেট আমদানির ক্ষেত্রে এইচএস কোড পরিবর্তন করে কমদাম দেখিয়ে সরকারের মোটা অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। সম্প্রতি শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট গোয়েন্দারা এই চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করছেন।

জানা গেছে, কম শুল্কের সাধারণ কার্পেট বা ম্যাটের বদলে এইচএস কোড পরিবর্তন করে দামি কার্পেট আমদানি করা হচ্ছে। আবার মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে অন্য পণ্যের আড়ালেও কার্পেট এনে সরকারের রাজস্ব ও ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যম কার্পেটের প্রকৃত মূল্য গোপন করে ভুয়া ইনভয়েস তৈরি করা হচ্ছে। এতে শুল্ক ফাঁকি বা কমশুল্ক দিয়ে পণ্য খালাস করে বাজারজাত করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমদানিকৃত দামি কার্পেটের প্রকৃত বর্গফুট এবং ওজন কম দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিভিন্ন সময়ে আমদানি করা পণ্যের চালান পরীক্ষার পাশাপাশি আমদানিকারকের নথিপত্র অডিট করার কাজ শুরু করেছে। শুল্ক ফাঁকি রোধে এনবিআর এক্স-রে স্ক্যানার ব্যবহার ও ডিজিটাল ডাটাবেজ যাচাই বাছাই করছে।

বাংলাদেশে কার্পেট আমদানি ও চোরাচালানে কারা জড়িত জানতে চাইলে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাদের নাম প্রকাশ করতে চাননি। তবে তারা জানিয়েছেন ঢাকার বড় পাইকারি বাজার নিউ এলিফ্যান্ট রোড, পুরানা পল্টন ও পুরান ঢাকার কিছু প্রতিষ্ঠান এই চক্রে জড়িত। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চক্রটি বেলজিয়াম, তুরস্ক, চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কার্পেট এনে বাংলাদেশে বিক্রি বা ডিস্ট্রিবিউশন করছে। তাদের বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমান বলেন, কার্পেটসহ যেকোনো পণ্যের শুল্ক ফাঁকি রোধে কাজ করছে। কারও বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত