হামের প্রাদুর্ভাবের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা অনুসন্ধানে একটি ইনকোয়ারি কমিশন কেন গঠন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। জনস্বার্থে করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রুল দেয়। স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে আদেশে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব।
হামের টিকাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বাইরে বেসরকারি খাতে দেওয়ায় সাবেক অন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম।
এতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের আরজি জানান তিনি। এর আগে ৬ এপ্রিল এ বিষয়ে আইনি নোটিস পাঠানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি শুনানিতে আসে।
অ্যাডভোকেট মামুন মাহবুব দেশ রূপান্তরকে বলেন, যে হাম জাদুঘরে চলে গিয়েছিল সেই হাম টিকা না দিয়ে ফিরিয়ে আনেন ড. ইউনূস। এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বতী সরকারের সময়ে টিকা না দেওয়ার রেশ আমাদের টানতে হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০০ শিশু মারা গেছে। প্রতিদিন শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। আমরা হাইকোর্টে বিস্তারিত শুনানির পর হাইকোর্ট এ বিষয়ে কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্টের অধীনে কেন তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না এ মর্মে রুল দিয়েছেন।’
সরকারের পদক্ষেপ জানতে চায় হাইকোর্ট : হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা এবং হামে আক্রান্ত শিশুদের বাঁচাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে দাখিল করতে বলা হয়েছে। এক রিট আবেদনের ওপর গতকাল প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়।
রুলে হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতিসংঘ শিশু তহবিল এবং রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধি সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি কেন গঠন করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি হামের প্রাদুর্ভাবে মারা যাওয়া শিশুদের প্রত্যেকের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছে আদালত। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও আইইডিসিআরের পরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। গত ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব জনস্বার্থে এ রিট আবেদনটি করেন।
