হাটের ভিড়ভাট্টা নেই। নেই কোনো হট্টগোল। বাসা থেকে নামলেই দশ মিনিটে কেনা যাচ্ছে গরু। ব্যতিক্রমী এই মিনি গরুর হাট বসেছে রাজধানীর বনশ্রী সি ব্লকের শেষ প্রান্তে। এখানে গরু কিনলে ফ্রি হোম ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। গরু কিনে দড়ি ধরে গলদঘর্ম হয়ে দীর্ঘ পথও পাড়ি দিতে হচ্ছে না। এখানে গরু কিনে ক্রেতা যেমন খুশি, বিক্রেতাও তেমনি।
ঈদের আর মাত্র বাকি এক দিন। এখন শেষ মুহূর্তের সব কেনাকাটা চলছে। আগামীকালও গরু কেনা যাবে। রামপুরার আশেপাশে আফতাবনগরের সানভ্যালি আবাসিক এলাকা ছাড়াও হাজীপাড়াতে বসেছে গরুর হাট। কিন্তু এরপরও স্থানীয়দের নজর কেড়েছে এই মিনি হাট।
এই মিনি গরুর হাটে আসা ক্রেতা দিলরুবা সুলতানা জানান, প্রথমে আমরা কিছুটা বিরক্ত হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম আবাসিক এলাকার মধ্যে এসব কী? কিন্তু এখন গরু কেনার পর ভালো লাগছে। তিনি জানান, তিনি বাসা থেকে নেমে ১০ মিনিটের মধ্যেই একটি গরু কিনেছেন। এমনকি তারা গরুটি বাসায় পৌঁছে দিয়ে টাকা নিয়ে গেছে। কিছুটা যানজট হলেও এমন উদ্যোগকে তিনি এখন পছন্দ করছেন।
আরেকজন ক্রেতা রাজু জানান, তিনি সকাল থেকে তিনটি গরু কিনে দিয়েছেন তিন জনকে। এখানে এই মিনি হাট বসায় সকলের খুব ভালো হয়েছে।
রাজধানীতে ছাগল নিয়ে পথে পথে বিক্রেতার ঘুরলেও ঠিক ঘরের দরজায় গরু নিয়ে কেউ আসে না। গরু কেনা মানেই এক বিরাট কষ্টের আয়োজন। হাট থেকে বাসা দূরে হলে তো আর কথাই নেই। রীতিমতো ছোটখাটো ট্রাক ভাড়া করে হাটে যেতে হয়। নয়তো গরুর সঙ্গে বাদানুবাদ করতে করতে হাট থেকে বাড়ি ফিরতে হয়। এসময় অনেক অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে।
এই মিনি হাটে গরুর ব্যাপারী কিশোরগঞ্জের নাইম জানান, তিনি সকাল থেকে ৯টা গরু বিক্রি করেছেন। বেশ ভালো লাভ পেয়েছেন বলে জানান তিনি। এখানে কোনো দালাল বা অসাধু ব্যক্তি নেই। এ কারণে তারা বেশ নিরাপদ বোধ করছেন।
ময়মনসিংহ থেকে আসা আরেক ব্যাপারী মোবারক হোসেন জানান, তিনি ১৪টা গরু বিক্রি করেছেন গত দুই দিনে। সবগুলো গরু তিনি স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করেছেন। এখানে ভেতরে রাখার জায়গা আছে। সেখান থেকে দুটো-তিনটে করে গরু এনে বিক্রি করছেন।
ময়মনসিংহ থেকে আসা আরেক ব্যাপারী ওয়াদুদ জানান, তিনি আজকেই বিক্রি করেছেন ৬টা গরু। এখানে কোনো হাসিলও নেই। তিনি বলেন, এখান থেকে কিনবেন আর বাসায় নিয়ে যাবেন। আর কেউ যদি বাসায় নিয়ে যেতে না পারেন, আমরা নিজেরাই দিয়ে আসছি।
তবে কুষ্টিয়া থেকে আসা শাহরুলের ভাগ্যে এদের বিপরীত। চারদিন হলো তিনটি গরু নিয়ে এসেছেন। একটি অসুস্থ হয়ে পড়াতে জবাই করে বিক্রি করেছেন। আর দুটির একটিও এখনও বিক্রি করতে পারেননি। তবে আশা করছেন আরও দুই দিনে তার গরুগুলো বিক্রি হয়ে যাবে।
তবে এই মিনি হাটের সব গরুই ছোট এবং মাঝারি। এখানে গরুর দাম ৮০ হাজার থেকে এক লাখ ৮০ থেকে ৯০ হাজারের মধ্যে।
